প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের ১৭টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ প্রবলভাবে বয়ে যাচ্ছে, তবে আগামীকাল শুক্রবার থেকে কিছু কিছু এলাকায় এটি ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া সংস্থার নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলবীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে এই শৈত্যপ্রবাহ কিছু কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে, তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, রাতে ও ভোরে তাপমাত্রা এখনও নিম্নমাত্রার কাছাকাছি থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে, যা কখনও কখনও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সড়কে যানবাহনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তাই ড্রাইভারদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, যেখানে দেশের বেশিরভাগ জায়গায় দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও দেশের আবহাওয়া অস্থায়ীভাবে শুষ্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে উত্তরের কিছু জেলায় সকাল পর্যন্ত ঠাণ্ডা ও কুয়াশা প্রবল থাকতে পারে, যা সাধারণ জনজীবনে অস্বস্তি তৈরি করবে।
তাপমাত্রার সর্বনিম্ন রেকর্ড অনুযায়ী, আজ যশোরে রাতের তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দিন এবং রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়তে পারে, যা জনসাধারণের জন্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত প্রবীণ মানুষ, শিশু ও রোগীকে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করতে আরও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার সামান্য বৃদ্ধি হলেও হঠাৎ কুয়াশা এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসগুলোর জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তাপমাত্রার এই পরিবর্তন সময়মতো খাওয়া, পোশাক ও যানবাহনের জন্য প্রস্তুতি নিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে রাতের তাপমাত্রা নিম্নমাত্রায় থাকার কারণে শীতজনিত অসুস্থতা এবং সর্দি-কাশি বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ কমতে শুরু করলেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভোর ও সকাল পর্যন্ত কুয়াশা এবং ঠাণ্ডা পরিস্থিতি চলতেই পারে। তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষকে হঠাৎ শৈত্যপ্রবাহের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্য রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
শৈত্যপ্রবাহ প্রশমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া অফিস আশা প্রকাশ করেছে যে, দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাবে, যা স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। তবে রাতের সময় এবং নদী, খাল ও জলাভূমি এলাকায় তাপমাত্রা এখনও কম থাকতে পারে, তাই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে।
দেশের প্রায় ১৭টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহের কারণে সাধারণ মানুষ এবং কৃষক সম্প্রদায়ের জীবিকা, যান চলাচল এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলা যেমন দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও রাজশাহীতে তাপমাত্রার হঠাৎ কমে যাওয়া তাদের জন্য শারীরিক ও সামাজিক অসুবিধা তৈরি করেছে। কৃষি সম্প্রদায় সতর্ক হয়েছে যাতে ফসল ও পশুপাখির ক্ষতি এড়ানো যায়।
শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের জন্য শীতজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া স্কুল ও কলেজগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে আক্রান্ত না হন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শীতকালীন এই অস্থির পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে, তবে জনগণকে স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।