প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
অন্তর্বর্তী সরকার অনুমোদন দিয়েছে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’, যা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর কার্যকর হয়েছে। এই নতুন অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কিত অন্যান্য অপরাধের শাস্তিও বাড়ানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া। সঙ্গে পুরোনো বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একটি একীভূত আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকো এবং অন্যান্য উদীয়মান তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ই-সিগারেট, Electronic Nicotine Delivery System (ENDS), Heated Tobacco Product (HTP), নিকোটিন পাউচসহ নতুন উদীয়মান পণ্যগুলিকে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার যেকোনো নতুন পণ্যকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এছাড়া ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে। ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করে সকল পাবলিক পরিবহনে এবং পাবলিক স্থানে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশে বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ওপরও কঠোর বিধান রয়েছে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং OTT প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন, CSR কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার, অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির নামে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মিশ্রণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্যাকেটের ৭৫% জায়গায় রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে, কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার প্রক্রিয়াও সংযোজিত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই শক্তিশালী আইন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ায় পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়বে। সামাজিক ও পরিবেশগত দিক থেকে এটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে স্কুল, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও শিশু পার্কের আশপাশে শিশু ও কিশোরদের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের প্রভাবে ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
এই আইনকে বাস্তবায়ন করতে প্রশাসনকে যথাযথ প্রশিক্ষণ, মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করবে। সরকার আশা করছে, এ পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য রক্ষা, তামাকজনিত রোগ প্রতিরোধ এবং দেশের সব বয়সের জনগণকে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।