পাকিস্তান-সৌদি সম্পর্ক জোরদার হবে নতুন প্রণোদনায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ বার
পাকিস্তান সৌদি সম্পর্ক জোরদার হবে

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার টেলিফোনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, আলাপটি উষ্ণ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও মজবুত করার প্রত্যয়ে এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল।

টেলিফোন আলাপের সময় শেহবাজ শরিফ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বৈচিত্র্যময় চ্যালেঞ্জের মধ্যে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, এটি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী সহযোগিতার প্রতীক।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোন আলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি ২০২৬ সালে পাকিস্তান সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা দুই দেশের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করবে। যুবরাজের মতে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও প্রসারিত করা সম্ভব।

শেহবাজ শরিফ টেলিফোন আলাপে রূপকথার মতো শীতল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, দুটি দেশই মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং মুসলিম উম্মাহর সমন্বয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তি শুধুমাত্র কূটনৈতিক নয়, এটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যেও মূর্ত।”

দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগের সুযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, এনার্জি খাত এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। দুই নেতা একমত হন যে, এই ধরনের সংহতকরণ পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে পাকিস্তান-সৌদি সম্পর্ক জোরদার করা কেবল দুটি দেশের মধ্যে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই টেলিফোন আলাপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শক্তি ভাগাভাগি এবং সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, শেহবাজ শরিফ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দুপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি ঐক্য, নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বজায় রাখার পাশাপাশি সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিরলসভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। তারা একমত হয়েছেন যে, দফায় দফায় আলোচনা, বৈঠক এবং শীর্ষ পর্যায়ের সফরই দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করবে।

দুই নেতা এই সংলাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন যে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

শেহবাজ শরিফ বলেন, “সৌদি আরব আমাদের সবচেয়ে প্রাচীন ও বিশ্বস্ত বন্ধু। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শুধু রাষ্ট্রীয় নয়, এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যেও বন্ধুত্বের অটুট সেতু হিসেবে কাজ করে।” যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও সমর্থন জানিয়ে বলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা সমৃদ্ধ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমে আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি।”

আলাপের শেষ দিকে দুই নেতা আগামী বছর পারস্পরিক সফর এবং উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা নিশ্চিত করেন। বিশেষভাবে এই উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে প্রসারিত করবে এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত