বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে স্টার্ক নেই, স্পিনে ভরসা অস্ট্রেলিয়ার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৭ বার
অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক আসরের জন্য দল বাছাইয়ে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তটি হলো—দলে না থাকা অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্কের। সাব-কন্টিনেন্টের কন্ডিশন মাথায় রেখে স্পিন ও অলরাউন্ড শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড, যা বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেট বিশ্বে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার উইকেটে সাধারণত স্পিনারদের প্রভাব বেশি থাকে—এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই নির্বাচকরা দল গঠন করেছেন বলে জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আসন্ন বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেবেন মিচেল মার্শ। দীর্ঘদিন ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে থাকা মার্শের ওপর এবার নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে, যা দলকে নতুন ভারসাম্য দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা ও আগ্রাসনের সমন্বয় ঘটবে বলেই প্রত্যাশা।

দলের ব্যাটিং বিভাগে রয়েছে একাধিক ম্যাচজয়ী নাম। ট্র্যাভিস হেড, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, টিম ডেভিড ও জশ ইংলিস—এই চারজনই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পরিচিত শক্তিশালী ব্যাটসম্যান হিসেবে। বিশেষ করে ম্যাক্সওয়েলের অলরাউন্ড সামর্থ্য অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় অস্ত্র। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পাশাপাশি প্রয়োজনে স্পিন বোলিং দিয়েও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন তিনি। তার সঙ্গে অলরাউন্ডার হিসেবে কুপার কনলি ও ম্যাথু শর্টকে দলে রাখায় মিডল অর্ডারে বাড়তি গভীরতা পেয়েছে দল।

তবে এবারের অস্ট্রেলিয়া দলকে আলাদা করে চিহ্নিত করছে স্পিন বিভাগ। মূল স্পিনার হিসেবে দলে রয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা ও ম্যাথু কুহনেম্যান। দীর্ঘদিন ধরে টি-টোয়েন্টি দলে জাম্পা অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ভরসার নাম। সাব-কন্টিনেন্টের কন্ডিশনে তার লেগ স্পিন আরও কার্যকর হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। কুহনেম্যানের অন্তর্ভুক্তি দলে বাঁহাতি স্পিন বিকল্প যুক্ত করেছে, যা প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার পেস বিভাগেও রয়েছে অভিজ্ঞতা, যদিও সেখানে বড় চমক স্টার্কের অনুপস্থিতি। প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডের মতো তারকা পেসাররা দলে থাকলেও, স্টার্ককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ক্রিকেটবিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষবার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন স্টার্ক। এরপর থেকে এই ফরম্যাটে তার অনিয়মিত উপস্থিতি এবং সাব-কন্টিনেন্টের কন্ডিশনে অতিরিক্ত পেসের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়েই হয়তো নির্বাচকরা তাকে প্রাথমিক দলে রাখেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও একটি আলোচিত বিষয় হলো চলমান বিগ ব্যাশ লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা স্পেন্সার জনসন ও বেন ডোয়ারশুইসের দলে না থাকা। ফর্মে থাকা এই দুই পেসারের জায়গায় স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন নাথান এলিস ও জেভিয়ার বার্টলেট। এলিস তার বৈচিত্র্যময় ডেথ বোলিংয়ের জন্য পরিচিত, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বার্টলেটের গতিময় বোলিং ও সুইং করার ক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দল ঘোষণার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি প্রাথমিক স্কোয়াড। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফর্ম, ফিটনেস ও কন্ডিশন বিবেচনায় পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে স্টার্কসহ অন্যদের ফেরার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবুও এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, তা হলো—এবারের বিশ্বকাপে তারা শক্তি ও গতির চেয়ে কৌশল ও বৈচিত্র্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ‘বি’ গ্রুপে থাকা অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড, ওমান ও জিম্বাবুয়ে। তুলনামূলকভাবে এই গ্রুপকে মাঝারি শক্তির বলা হলেও, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ১১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে তাদের শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই স্কোয়াডে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো অলরাউন্ড ভারসাম্য। ব্যাটিং গভীরতা, স্পিন বৈচিত্র্য এবং অভিজ্ঞ পেস আক্রমণ—সব মিলিয়ে দলটি কাগজে-কলমে বেশ শক্তিশালী। তবে স্টার্কের মতো অভিজ্ঞ ম্যাচজয়ী পেসারের অনুপস্থিতি নকআউট পর্বে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। সাব-কন্টিনেন্টের উইকেটে নতুন বলে সুইং ও ডেথ ওভারে ইয়র্কার—এই দুই অস্ত্র দিয়ে বহুবার দলকে উদ্ধার করেছেন স্টার্ক। তার অভিজ্ঞতা ছাড়া চাপের মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া কতটা কার্যকর হবে, তা দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস বলছে, তারা সব সময় বড় মঞ্চে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেয়। দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সেই তারা জবাব দিতে অভ্যস্ত। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও ব্যতিক্রম হবে না বলেই বিশ্বাস অজি সমর্থকদের। স্পিন নির্ভর এই নতুন কৌশল সফল হলে, সেটি হতে পারে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত