বিমানের নিট মুনাফা ৭৮৫ কোটি, রেকর্ড অর্জন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ বার
বিমানের নিট মুনাফা ৭৮৫ কোটি টাকা

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে নিট মুনাফা হিসেবে ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা অর্জন করেছে। এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই তথ্য জানানো হয়।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, বিগত অর্থবছরে বিমানের মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে অপারেশনাল মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিট মুনাফা ৭৮৫ দশমিক ২১ কোটি, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে বিমান টানা পঞ্চম বছরের মতো লাভের ধারাকে অটুট রেখেছে। উল্লেখযোগ্য, গত ১০টি অর্থবছরের মধ্যে ৯ বারই সংস্থাটি নিট মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এজিএমে অর্থ, বেসামরিক বিমান পরিবহন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধি ও শেয়ারহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।

বিগত অর্থবছরে বিমান ২১টি নিজস্ব ও লিজিং উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ৩০টি গন্তব্যে মোট ৩৩ দশমিক ৮৩ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি। এছাড়াও ৪৩ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন কার্গো পরিবহন করে সংস্থাটি ৯২৫ কোটি টাকা আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিমান বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৩১,১১২টি ফ্লাইটের প্রায় ৬১ লাখ যাত্রীকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদান করেছে। এছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড তৈরি হয়েছে। যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়াতে লাগেজ সরবরাহ দ্রুত করা, উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা এবং ডিজিটাল আধুনিকায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বোসরা ইসলাম আরও জানান, প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরে বিমান কোনো প্রকার সরকারি ভর্তুকি গ্রহণ করেনি। সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে পরিচালিত এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা দক্ষ অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রেকর্ড মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

বিমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে নতুন জনপ্রিয় গন্তব্যে রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবা ও পরিচালনায় ডিজিটাল রূপান্তর এবং কার্গো সেবা শক্তিশালীকরণ। সংস্থার লক্ষ্য হলো জাতীয় গৌরবকে ধারণ করে বিশ্বমানের সেবা, নির্ভরযোগ্যতা এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, বিমানের এই আর্থিক সাফল্য দেশের বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের মধ্যে স্বতন্ত্র উদাহরণ স্থাপন করেছে। টানা লাভের ধারা এবং উন্নত সেবা প্রদানের মাধ্যমে সংস্থাটি দেশের এয়ারলাইন খাতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে। বিশেষ করে কার্গো সেবা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিদেশি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সেবা প্রদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখায় বিমানকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক এয়ারলাইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হচ্ছে।

এছাড়া যাত্রীসেবায় ডিজিটালীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ফ্লাইট অপারেশন সংযোজন বিমানের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং প্রতিযোগিতামূলক করেছে। বোসরা ইসলাম উল্লেখ করেছেন, নতুন রুট সম্প্রসারণ, উন্নত সেবা ও প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে যাত্রী সন্তুষ্টি বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সংস্থা বদ্ধপরিকর।

বিমানের এই অর্জন দেশের বেসরকারি বিমান খাতে নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছে, যেখানে টানা পাঁচ বছর লাভের ধারাকে অটুট রাখা এবং নিজস্ব আয়ে পরিচালিত হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত