প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় একজন নিরীহ ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যা করার ঘটনায় দেশজুড়ে যখন ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তখন এ ঘটনার প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সামাজিক মাধ্যমে তার আবেগঘন ও প্রতিবাদী মন্তব্য মুহূর্তে আলোড়ন তোলে এবং ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।
গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনের রাস্তায় লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, শুরুতে হাসপাতালের ভেতরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর আহত অবস্থায় টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে সবার চোখের সামনে তাকে পাথর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা কেবল একজন ব্যবসায়ীর মৃত্যু নয়, বরং নগরজীবনের নিরাপত্তাহীনতার এক বেদনাবিধুর প্রতিচ্ছবি।
ঘটনার পরদিনই দেশের বাইরে অবস্থান করেও পুরো বিষয়টি জানতে পেরে এক আবেগময় স্ট্যাটাস দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “এ কোন যুগ! কোন সমাজ! প্রকাশ্য দিবালোকে একজন ক্ষুদ্র, সাধারণ ব্যবসায়ীকে শুধু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে শত শত মানুষের সামনে কতটা নির্মমভাবে হত্যা করা হলো!”
তার বক্তব্যে ছিল এক ধরণের স্বীকারোক্তিমূলক লজ্জা ও অসহায়ত্বের অনুভূতি। তিনি বলেন, “হে ক্ষতিগ্রস্ত মজলুম পরিবার, আমরা তোমাদের কাছে লজ্জিত। হে ব্যবসায়ী ভাই সোহাগ, তোমার এই পরিণতি হওয়ার আগে সত্যিকারের কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলাম না— এজন্য আমরা আন্তরিকভাবে লজ্জিত।”
পোস্টে তিনি কেবল দুঃখ ও নিন্দা প্রকাশ করেননি, বরং দেশের মানুষকে সমবেদনার জায়গা থেকে সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, “হে সমাজ, জেগে উঠো! মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার প্রমাণ দাও। মনে রেখো— আজ তুমি কারো বিপদে চুপ থাকলে, আগামীকাল তোমার ওপর এর চেয়েও বড় বিপদ এলে, তখন তুমি কাউকে পাশে পাবে না।”
তিনি সবশেষে বলেন, “অতএব, ভয় ও সংকোচ উপেক্ষা করে আমাদেরকে সমস্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হবে।”
এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গেছে। অনেকে এই ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অভাবের বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এমন এক সময়ে যখন নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ এবং দুর্বৃত্তায়নের শিকার সাধারণ মানুষ অসহায়ভাবে নীরব, তখন জামায়াত আমিরের এই প্রকাশ্য অবস্থান রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরেও এক সামাজিক প্রতিরোধের আকুতি হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। তবে তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক ফোরামগুলোতেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে— কেবল বক্তব্যে নয়, বরং বাস্তবিক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা ও সদিচ্ছার পরীক্ষা হিসেবে।
ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ড আজ শুধু তার পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের সামনে এক নৈরাজ্যিক বাস্তবতার দরজাকে খুলে দিয়েছে— যেখানে প্রতিবাদ না থাকলে পরবর্তী ভুক্তভোগী যে কেউ হতে পারেন। এখন সময় এসেছে ভয় ও নিরবতা ছুঁড়ে ফেলে, সংঘবদ্ধ সামাজিক সচেতনতা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছে। সমাজে ন্যায়, নিরাপত্তা ও মানবিকতার প্রতিষ্ঠা শুধু রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের দায়িত্ব নয়, বরং তা এখন প্রতিটি বিবেকবান নাগরিকের নৈতিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।