কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে ২ কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৬ বার
কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে ২ কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লা সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ভারতীয় মালামাল জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি সূত্র জানায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়, যার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশ করা বিপুল পরিমাণ পণ্য আটক করা সম্ভব হয়েছে।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) অধিনায়ক কর্নেল মীর আলী এজাজ অবৈধ ভারতীয় মালামাল আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের অর্থনীতি, স্থানীয় শিল্প এবং ভোক্তা নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাফিদ খানের উপস্থিতিতে ব্যাটালিয়নের অ্যাডজুটেন্টের নেতৃত্বে বিজিবি ও পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে এই টাস্কফোর্স কাজ শুরু করে।

ওই দিন রাত সাড়ে সাতটার দিকে টাস্কফোর্স দল কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করে। চট্টগ্রামগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে সন্দেহভাজন বগিগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়। এসব পণ্যের বাজারমূল্য হিসাব করে দেখা যায়, মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭০ টাকা।

আটককৃত মালামালের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের বাজি, কসমেটিকস সামগ্রী, শাড়ি, বাসমতি চাল এবং ফুচকা তৈরির উপকরণ। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, এসব পণ্য অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে এবং পরে ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের প্রস্তুতি ছিল। তবে অভিযানের ফলে সেই চোরাচালান চক্রের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় নানা ধরনের পণ্য অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা চলে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে খাদ্যপণ্য, পোশাক, কসমেটিকস এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য। চোরাচালানকারীরা কখনো ট্রেন, কখনো ট্রাক বা পিকআপভ্যান ব্যবহার করে এসব মালামাল দেশের অভ্যন্তরে পৌঁছে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ পণ্যের এই প্রবাহ দেশের স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসার জন্য বড় হুমকি। অবৈধভাবে আসা সস্তা পণ্যের কারণে দেশীয় উৎপাদকরা ন্যায্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেন না। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় রাজস্বও বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়ে। এ কারণে বিজিবির মতো বাহিনীর নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) অধিনায়ক কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, আটককৃত চোরাচালানি মালামাল বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, চোরাচালানকারীরা নানাভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে বিজিবি সর্বাধুনিক তথ্য ও কৌশল ব্যবহার করে এসব অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আশ্বস্ত করেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং চোরাচালান বন্ধে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বিজিবি শুধু সীমান্তেই নয়, দেশের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য চোরাচালান রুটগুলোতেও নজরদারি বাড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অবৈধ পণ্যের কারণে বাজারে নকল ও নিম্নমানের পণ্যের ছড়াছড়ি দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বাজি ও কসমেটিকসের মতো পণ্যগুলো অবৈধভাবে আসায় মান নিয়ন্ত্রণ থাকে না, ফলে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা বাড়ে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা না গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে, একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র এর সঙ্গে জড়িত। তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে।

সার্বিকভাবে, কুমিল্লায় এই অভিযান চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রমে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন বছরের শুরুতেই বিজিবির এমন সাফল্য সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের বার্তা দেয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত