হাদি হত্যায় সঞ্জয় ও ফয়সাল দায় স্বীকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৩ বার
হাদি হত্যায় সঞ্জয় ও ফয়সাল দায় স্বীকার

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রধান আসামির সহযোগী সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল আদালতে দায় স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে উভয় আসামির জবানবন্দি রেকর্ডের পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই জবানবন্দি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি নরসিংদী জেলার সদর থানাধীন তরুয়া এলাকার মোল্লাবাড়ির সামনে তরুয়ার বিল থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ফয়সালকে আটক করা হয়। ফয়সাল মূলত প্রধান আসামি শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদের শ্যালকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত।

মামলাটি ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে দায়ের করেছিলেন। মূলত হত্যাচেষ্টা মামলা হিসেবে শুরু হলেও পরবর্তীতে মামলায় ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা এবং তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু। এছাড়া রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ, সহযোগী সঞ্জয় চিসিম এবং আত্মগোপনে সহায়তাকারী আমিনুল ইসলাম রাজু। এদের মধ্যে হুমায়ুন, হাসি, সামিয়া, লিমা, সিপু ও রাজু দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নুরুজ্জামান রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আদালত। এটি নিশ্চিত করে যে তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি আদালতের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকবেন।

হাদির হত্যাচেষ্টা মামলায় আসামিদের জবানবন্দি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জবানবন্দিতে তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং সহযোগীদের ভূমিকার তথ্যও আদালতে জানিয়েছেন। এটি তদন্তকে আরও দ্রুত এবং কার্যকর করতে সাহায্য করবে।

নিউজ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের স্বীকারোক্তি তদন্ত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শুধু মামলার গতিশীলতা বৃদ্ধি করে না, বরং আইনের কঠোরতার দিকও প্রতিফলিত করে। এছাড়া এই ধরনের তথ্য সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে সহায়ক।

হাদির হত্যাচেষ্টা ও তার পরবর্তী মামলাটি সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। মামলার প্রক্রিয়ায় মূল আসামির সঙ্গীসহ সহযোগীদের দায় স্বীকারের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তারা হত্যার পেছনের পরিকল্পনা ও অংশগ্রহণকারীদের সম্পূর্ণ চিত্র আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছেন।

আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি মূলত প্রমাণের ভেতরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি প্রমাণ করে যে হত্যার সঙ্গে জড়িত কতজন ব্যক্তি ছিল এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল। এছাড়া এই ধরনের স্বীকারোক্তি আদালতকে যথাযথ শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসাবে কাজ করবে।

নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মামলা এবং আসামিদের স্বীকারোক্তি দেখাচ্ছে যে আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ও আদালত কার্যকরভাবে কাজ করছে এবং সমাজে আইনের শাসন বজায় রাখার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

এ ঘটনার মাধ্যমে একটি বার্তাও স্পষ্ট হচ্ছে, যে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় থাকতে হবে। অপরাধীর স্বীকারোক্তি ও আদালতের কার্যক্রম প্রমাণ করছে যে কোন অবস্থাতেই হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার মতো অপরাধকে সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না এবং আইনের কঠোর ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত