অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক স্কোয়াডে স্পিন শক্তি বাড়ল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৯ বার
অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক স্কোয়াডে স্পিন শক্তি বাড়ল

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপমহাদেশের মাটিতে, যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এ বড় আসরকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলটির প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বিশেষভাবে এইবারের দল গঠন করা হয়েছে উপমহাদেশের শর্ত ও পিচকে মাথায় রেখে, যেখানে স্পিন বোলিংকে শক্তিশালী করা হয়েছে।

প্রাথমিক ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পারকে সহায়তায় রাখা হয়েছে দুইজন বাঁহাতি স্পিনার—ম্যাথু কুনেমান ও কুপার কনোলিকে। এছাড়া স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাথু শর্ট। এ আয়োজনের মাধ্যমে স্পিনে বৈচিত্র্য ও গভীরতা এনে দেওয়া হয়েছে, যা উপমহাদেশের শর্তে বিশেষভাবে কার্যকর হবে।

দলের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা যাচ্ছে চোট কাটিয়ে ফিরে আসা তিনটি নাম—টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও টিম ডেভিড। চলতি বছরে অ্যাশেজে কামিন্স শুধু অ্যাডিলেড টেস্টে অংশ নিতে পেরেছিলেন, হ্যাজলউড চোটের কারণে খেলেননি, আর ডেভিডের বিগ ব্যাশ মৌসুমও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে শেষ হয়ে গিয়েছিল আগেভাগে। কামিন্সের চূড়ান্ত দলে থাকা নির্ভর করবে ফেব্রুয়ারির শেষের স্ক্যান রিপোর্টের ওপর। এদিকে মিচেল ওয়েন ও বেন দারউইশ এই প্রাথমিক স্কোয়াডে জায়গা পাননি।

পেস বোলিং বিভাগে আছেন কামিন্স, হ্যাজলউড, নাথান এলিস ও হাভিয়ের বার্টলেট। তাদের সঙ্গে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে দলে আছেন ক্যামেরন গ্রিন ও মার্কাস স্টয়নিস। তবে যদি শেষ মুহূর্তে কামিন্স বা হ্যাজলউড মাঠে না নামেন, তবে বাঁহাতি পেসার বেন দারউইশকে দলের ডাক দেওয়া হতে পারে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দলে যথেষ্ট ভারসাম্য রাখা হয়েছে, যাতে স্পিন ও পেস উভয় দিকেই শক্তিশালী হতে পারে অস্ট্রেলিয়া।

ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, এই স্কোয়াড গঠন অস্ট্রেলিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপমহাদেশে স্পিন, ছোট ও মাঝারি পিচে বলের বাঁক ও ধ্রুবক আর্দ্রতা মূল চ্যালেঞ্জ। তাই লেগ ও বাঁহাতি স্পিনারদের সমন্বয়, সঙ্গে স্পিন অলরাউন্ডারদের উপস্থিতি দলের পরিকল্পনায় গভীরতা আনবে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাথু শর্টের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি, যারা দ্রুত রান করতে সক্ষম এবং স্পিনে প্রতিরোধ গড়তে পারে, দলের জন্য বড় সুবিধা হবে।

এবারের স্কোয়াডে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হচ্ছে, অভিজ্ঞ পেসারদের সঙ্গে তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়। প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের ফিটনেস এবং অভিজ্ঞতা দলের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করবে। নাথান এলিস ও হাভিয়ের বার্টলেটকে দিয়ে টেস্টার অভিজ্ঞতার সঙ্গে টি-টোয়েন্টির গতিশীলতা মিলিয়ে দলে ব্যালান্স রাখা হয়েছে। ক্যামেরন গ্রিন ও মার্কাস স্টয়নিস পেস ও ব্যাটিং উভয় ক্ষেত্রে সমর্থন দেবে।

অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডের নেতৃত্বে আছেন মিচেল মার্শ, যিনি এই দলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও মাঠের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন হাভিয়ের বার্টলেট, কুপার কনোলি, প্যাট কামিন্স, টিম ডেভিড, ক্যামেরন গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিশ, ম্যাথু কুনেমান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাথু শর্ট, মার্কাস স্টয়নিস এবং অ্যাডাম জাম্পা।

অস্ট্রেলিয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করবে ১১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পিনে বৈচিত্র্য এবং অভিজ্ঞ পেসারদের সমন্বয় অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হবে, যা উপমহাদেশের কন্ডিশনে প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই স্কোয়াডে দারুণ ভারসাম্য রয়েছে। স্পিন ও পেসের সমন্বয়, তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি, পাশাপাশি ফিটনেস এবং চোট কাটিয়ে ফিরে আসা খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য সেরা দল হিসেবে দাঁড় করাবে। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের উপর নির্ভর করছে, কিভাবে তারা আন্তর্জাতিক আসরে নিজেদের কার্যকারিতা দেখাবে।

অস্ট্রেলিয়ার কোচিং স্টাফ ইতোমধ্যে স্পিন ও পেস দুই বিভাগেই বিশেষ অনুশীলন শিবিরের আয়োজন করেছে। বিশেষ করে উপমহাদেশীয় শর্তে স্পিন বোলিংয়ের কৌশল ও ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়ানো হচ্ছে। তাছাড়া দলের মানসিক প্রস্তুতির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রতিটি ম্যাচে চাপ সামলে নিজেদের সেরাটা প্রদর্শন করতে পারে খেলোয়াড়রা।

প্রথম ম্যাচ থেকে বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য থাকবে স্পিন ও পেসের সমন্বয় দিয়ে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। প্রাথমিক স্কোয়াডের এই পরিকল্পনা নিশ্চিত করছে যে, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়ার জন্য কৌশলগত ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফলাফলে সাফল্য আনতে সক্ষম হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত