প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএটিআরসি ভবনে উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মোবাইল ফোন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার পর হঠাৎ হামলা চালান মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা। ভাঙচুর ও বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তায় উপস্থিত হয় এবং এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান জানান, “বিক্ষোভকারীরা আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়েছে। ভবনে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি।” তিনি আরও বলেন, হামলায় বিএটিআরসির মসজিদের কাঁচ ভেঙে গেছে। হামলার সময় সেখানে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নামাজ পড়ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
বিটিআরসির এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, “হঠাৎ করে ভবনে ভাঙচুর শুরু হয়। রাস্তা থেকে কয়েকশ বিক্ষোভকারী অবস্থান নিয়ে ভবনে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারছে। ভবনের বিভিন্ন কাঁচ ভেঙে গেছে। ছুটির পরেও কেউ বের হতে পারছিল না। পরিস্থিতি খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল।” তার বক্তব্যে বোঝা যায়, অভ্যন্তরীণ কর্মচারীরা হামলার ভয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।
ঘটনার পেছনে সরাসরি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে এনইআইআর কার্যক্রমের বাস্তবায়ন। মোবাইল নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীদের কিছু শুল্ক বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত নিয়ম-নীতি আরোপের কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দাবি করছেন, নতুন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করলে তাদের ব্যবসা এবং ক্রেতাদের সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই অমিলের কারণে পরিকল্পিত নয়, আকস্মিক ও তীব্র বিক্ষোভে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগারগাঁও এলাকার আশেপাশে কয়েকশ ব্যবসায়ী একত্রিত হয়ে হামলা ও ভাঙচুরের উদ্যোগ নেন। তারা ভবনের বাইরে অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি ইটপাটকেল ছুঁড়ে ভবনের কাঁচ ও অন্যান্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে ভবনের কক্ষ, মসজিদ এবং অফিসের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলার সময় ভবনের বাইরে ও আশেপাশের এলাকা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিরূপ প্রভাব পড়ে। আশেপাশের বাসিন্দারা তীব্র আতঙ্কে নিজেদের বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রাখেন। এই সময় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যস্ত থাকে। কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং অনেককেই আটক করা হয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে দেশে মোবাইল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন ও সরকারের নীতি নিয়ে নতুনভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এনইআইআর কার্যক্রমের প্রয়োগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না হলে ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা ও বাধা সৃষ্টি হতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখে দেওয়া যায়।
সবমিলিয়ে, বৃহস্পতিবার বিকেল আগারগাঁওয়ের বিএটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও কেউ আহত হয়নি, তবুও অফিস ও মসজিদের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন। দেশের মোবাইল ব্যবসা ও ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে নীতি প্রয়োগ এবং সুষ্ঠু সংলাপের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।