প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এরশাদ খান (৩৫) নামে একজন পরিচিত ফল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোর ৭টার দিকে নড়িয়া–শরীয়তপুর সড়কের নড়িয়া প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের বাড়ি নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ নড়িয়া গ্রামে, তিনি মেছের খারের বাসিন্দা। প্রতিদিনের মতো সেই দিনও তিনি মোটরসাইকেল যোগে বাজারে যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নড়িয়া প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনের সড়কে একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাককে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলি গাড়ির সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তিনি ট্রাকের পেছনের চাকার নিচে চলে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে সড়কচলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও পরে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া সাংবাদিকদের জানান, “দুর্ঘটনা সত্যি ঘটেছে। অভিযুক্ত ট্রাক ও তার চালককে পুলিশ দ্রুত আটক করেছে। ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।” তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারকে মরদেহ হস্তান্তর এবং আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাফিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অনেকেই বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের অস্বাভাবিক গতিবেগ ও রাস্তার অসতর্কতা এমন দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার জনজীবন প্রভাবিত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিনের মতো সকাল-বিকেল সড়কে মানুষ ও যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও কখনও কখনও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। এটি নড়িয়ার সড়ক নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যারই প্রমাণ।
নিহত এরশাদ খান একজন পরিচিত ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, তিনি বাজারে সবসময় সতর্ক এবং দায়িত্বশীল ছিলেন। ব্যবসায়িক জীবনের পাশাপাশি তিনি এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নড়িয়া–শরীয়তপুর সড়ককে আরও নিরাপদ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছে, সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমাতে পথচারী ও যানবাহন চালকদের সতর্কতা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলা জরুরি।
ঘটনাস্থল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরে নড়িয়া পৌরসভার মানুষ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগ নিতে শুরু করেছেন। তারা বলছেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেজন্য সড়ক ব্যবস্থাপনা, সিগন্যালিং ও জরুরি প্রতিক্রিয়ার মান উন্নত করতে হবে।
শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নিহতের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে সমবেত হয়েছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
নড়িয়ার এই দুর্ঘটনা আবারও আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কারণে হাজার হাজার পরিবার শোকাহত হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক ও সচেতনতা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব।