হলফনামায় গরমিল, মান্নার মনোনয়ন বাতিল বগুড়ায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৭ বার
হলফনামায় গরমিল থাকায় বগুড়ায় মান্নার মনোনয়ন বাতিল

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন প্রার্থী যাচাই-বাছাই নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় বগুড়া-২ আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনায় নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তার দাখিল করা হলফনামায় তথ্যের গরমিল পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়। ফলে আসন্ন নির্বাচনে মান্নার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।

শুক্রবার বগুড়া জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. তৌফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দাখিল করা হলফনামার সঙ্গে সংযুক্ত কিছু তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য ও গরমিল পাওয়া গেছে, যা নির্বাচন আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যদিও কোন কোন তথ্য নিয়ে এই গরমিল সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

মাহমুদুর রহমান মান্না ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বিভিন্ন সময়ে সরকার ও রাষ্ট্র পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে সরব অবস্থান নেওয়ার কারণে আলোচনায় ছিলেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি হিসেবে তিনি নিজেকে বিকল্প রাজনৈতিক ধারার একজন প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাই তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত শুধু ওই আসনের নয়, জাতীয় পর্যায়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বগুড়ার রাজনীতিতে এই ঘটনা নতুন নয়। একই দিনে একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্দারের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বগুড়া-২ আসনে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতার চিত্র বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কঠোরতা দেখানো হলে নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত কোন কোন প্রার্থী টিকে থাকবেন, তা নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়বে।

এদিন সকালে বগুড়ার আরেকটি আসনেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত আসে। বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসন থেকে প্রার্থী হওয়া শাহজাদী আলম লিপির মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বগুড়া জেলার বগুড়া-১, বগুড়া-২ ও বগুড়া-৩ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম একযোগে শুরু হয় এবং রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান ছিল। অর্থাৎ আরও কিছু প্রার্থীর ভাগ্য এদিন নির্ধারিত হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।

মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাগরিক ঐক্যের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলেও তারা আইনি পথ খোলা রাখবেন এবং প্রয়োজন হলে আপিল করবেন। দলটির একাধিক নেতা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী আপিলের সুযোগ রয়েছে এবং তারা আশা করছেন, উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, হলফনামায় সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া প্রার্থীর দায়িত্ব এবং এখানে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে নানা বিতর্ক দেখা গেছে। সম্পদের হিসাব, মামলা সংক্রান্ত তথ্য, পেশা ও আয়ের বিবরণ—এসব তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ না করলে মনোনয়ন বাতিলের নজির আগেও রয়েছে। নির্বাচন কমিশন বারবার বলে আসছে, হলফনামার মাধ্যমে ভোটারদের সামনে প্রার্থীর স্বচ্ছতা তুলে ধরা হয়। তাই এখানে কোনো ধরনের গরমিল পাওয়া গেলে তা কঠোরভাবে বিবেচনা করা হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়ন বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, যাচাই-বাছাইয়ের মানদণ্ড সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব প্রশ্নের উত্তর নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নির্ভর করছে।

স্থানীয় পর্যায়ে বগুড়ার ভোটারদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, জনপ্রিয় বা পরিচিত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নির্বাচনের উত্তাপ কিছুটা কমতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এতে নতুন মুখ বা নতুন প্রার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। বগুড়া-২ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত, ফলে এখানকার প্রতিটি সিদ্ধান্ত জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই শেষে যে প্রার্থীরা বাতিল হয়েছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। সুতরাং মাহমুদুর রহমান মান্নার নির্বাচনী ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে আপিল প্রক্রিয়া কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে উপস্থাপিত তথ্য ও আইনি ব্যাখ্যার ওপর।

সব মিলিয়ে, বগুড়ায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে ঘিরে যে চিত্র উঠে আসছে, তা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সূচনা করছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের আইনানুগ অবস্থান, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশা—এই দুইয়ের সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত