শপথ নিতেই কাজ শুরু করলেন নিউইয়র্কের মামদানি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭০ বার
দায়িত্ব নিয়েই ইসরাইল-সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করলেন মামদানি

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নিউইয়র্ক শহরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও আফ্রিকান-বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পরই জোহরান মামদানি দফতরের কাজ শুরু করেছেন। শহরের আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তিনি শপথগ্রহণের মূহূর্তে উদ্যোগী হবার প্রতিশ্রুতি দেন। মামদানির এই শুরুর পদক্ষেপ শহরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িভাড়া, আবাসন অস্বচ্ছতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো সমস্যা নাজুক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হন ৩৪ বছর বয়সি মামদানি। তিনি নির্বাচনে সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করেন। দুই মাস পর ২০২৬ সালের প্রথম দিনে, নববর্ষের প্রথম প্রহরে, নিউইয়র্ক সিটি হলের সাবওয়ে স্টেশনের একটি ঐতিহাসিক ট্রানজিট হাবে শপথ নেন তিনি। এই ট্রানজিট হাব ১৯৪৫ সাল থেকে বন্ধ ছিল, আর এখানেই পবিত্র কোরআন হাতে নবনিযুক্ত মেয়র কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রমা দুয়াজিও। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস শপথ পাঠ করান।

শপথ গ্রহণের পর সকাল থেকেই তিনি কার্যক্রম শুরু করেন। ব্রুকলিনের একটি ভবনে তিনি আবাসন সংক্রান্ত তিনটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর মধ্যে শহরের মালিকানাধীন জমি আবাসনের জন্য চিহ্নিত করা, ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ করা এবং একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা অন্তর্ভুক্ত। মামদানির সহযোগী ও ডেপুটি মেয়র লেইলা বোর্জর্গ বলেন, “নিউইয়র্কের মূল সমস্যা আবাসন সংকট। আমরা খারাপ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”

দুপুরে সিটি হলের সিঁড়িতে আয়োজিত বিশাল গণসমাবেশে অংশ নেন লাখো মানুষ। কনকনে শীত উপেক্ষা করে তারা নতুন মেয়রের স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত মার্কিন রাজনীতিক ও বামপন্থি নেতা ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। বার্নি স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে বলেন, “শ্রমজীবী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে অসাধ্য সাধন সম্ভব।”

মামদানির অভিষেক ভাষণে ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, “আমরা আর দেরি করব না।” অর্থাৎ তার প্রশাসন প্রগতিশীল পরিবর্তনের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রধান স্তম্ভ ছিল কর সংস্কার এবং আবাসন সুরক্ষা। তিনি নিউইয়র্কের কর্পোরেট কর ৭.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন এবং বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয়কারীদের ওপর কর বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।

নিউইয়র্কবাসী তার এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে, কারণ নতুন মেয়র কর নীতি ও আবাসন সুরক্ষার ক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। শপথ নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়া, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রদর্শন করে মামদানি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি এক জন কার্যকর ও সক্রিয় প্রশাসক হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও জটিল শহর নিউইয়র্কে এই পরিবর্তনশীল নেতৃত্ব স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নজর কাড়ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মামদানির পদক্ষেপ, কর ও আবাসন সংক্রান্ত সংস্কার কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে মনোযোগ প্রদর্শন করতে শুরু করেছে। নতুন মেয়রের এই কর্মপরিকল্পনা যদি সফল হয়, তাহলে এটি নিউইয়র্কের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত