প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভোলা জেলার তুলাতুলি এলাকায় মেঘনা নদীতে বৃহস্পতিবার ভোরে একটি লবণবাহী ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা সাতজন মাঝিকে স্থানীয়রা জীবিত উদ্ধার করেছে। তবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রলারের মাঝি। এই দুর্ঘটনা নদীতে ঘন কুয়াশার মধ্যে ঘটে, যা স্বাভাবিক নৌ চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করেছিল।
ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি এলাকার ইলিশবাড়ি সংলগ্ন এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, যখন কাঠের ট্রলার এমভি দিলোয়া-৩ প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন লবণ বোঝাই করে খুলনার জেলখানা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। ট্রলারের মাঝি বিল্লাল হোসেন জানান, রাত আনুমানিক ৩ টায় ঘন কুয়াশার কারণে তারা নদীতে দিকনির্দেশনা হারান। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বড় কার্গো জাহাজ ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটায়। পানি ঢুকতে শুরু করলে মাঝি তীরে ভিড়ানোর চেষ্টা করেন।
সতর্কতা হিসেবে ট্রলারের সাতজন কর্মী ছোট নৌকায় করে নিরাপদে তীরে ওঠে। এসময় কেউ আহত বা নিখোঁজ হননি। মাঝি বিল্লাল হোসেন জানান, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার লবণ ও সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘন কুয়াশার কারণে ট্রলারটি নদীতে নোঙর করা ছিল। পিছন থেকে আসা জাহাজের ধাক্কায় ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তীরে আনার পথে পানি ওঠায় এটি ডুবে যায়।”
দুপুরে ভোলা কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়, তবে তখন পর্যন্ত তৎপর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি। ভোলা নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, নদীতে ট্রলার ডুবে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “ডুবন্ত ট্রলারটি উদ্ধারে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। নৌপরিবেশে ঘন কুয়াশার কারণে জাহাজ ও ট্রলারের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।”
উল্লেখ্য, মেঘনা নদী ভোলা ও কুমিল্লা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এখানে প্রতিদিন বহু ট্রলার ও কার্গো জাহাজ চলাচল করে। বিশেষ করে শীতকালে ঘন কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতা এই ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, নদীতে ট্রলার ডুবির আগে তাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক দেখা দেয়। মাঝির দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় সহায়তায় সাতজন কর্মী জীবিত থাকায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়ানো গেছে। তবে লবণসহ ট্রলারটির সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি নদীর তলদেশে পড়ে গেছে।
উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর আরও নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং ঘন কুয়াশায় নৌযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী মেনে চলার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও নৌপরিবেশের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। নদীতে চলাচলরত ট্রলার ও জাহাজগুলোর জন্য যথাযথ নেভিগেশন, পর্যাপ্ত আলো এবং ঘন কুয়াশার ক্ষেত্রে মনিটরিং ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেঘনা নদীতে বিভিন্ন নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ব্যস্ত নৌপথ ও আবহাওয়া ঝুঁকি প্রধান কারণ।
এ ঘটনা প্রমাণ করেছে, নদীতে নৌ চলাচলের সময় সতর্কতা ও অভিজ্ঞ মাঝিদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বাল্ক লোডসহ ট্রলার চলাচল এবং বড় কার্গো জাহাজের সাথের সংঘর্ষ এ ধরনের দুর্ঘটনার জন্য অন্যতম কারণ। দ্রুত উদ্ধার ও নিরাপদ তীরে পৌঁছানোর মাধ্যমে বড় ধরনের প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
এ দুর্ঘটনার পর স্থানীয় নৌ কর্মকর্তা ও কোস্টগার্ডের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নদীতে তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।