প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করে তাঁদের কবর জিয়ারত, পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল। রোববার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসক এবং সাদা দলের নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বটি ছিল শান্ত, শালীন ও আবেগঘন; যেখানে ইতিহাস, রাজনীতি ও ব্যক্তিগত স্মৃতির মেলবন্ধনে এক মানবিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সকাল থেকেই জিয়া উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন সাদা দলের নেতাকর্মী ও সমর্থক শিক্ষকরা। দলীয় পরিচয়ের বাইরে শিক্ষক হিসেবে দেশের ইতিহাস ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের জায়গা থেকে তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। কবর জিয়ারতের শুরুতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং পরে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন উপস্থিত সবাই। দোয়া পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান নিজামী। মোনাজাতে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চলে যাওয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও দলীয় পরিবারের জন্য এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। তাঁর ভাষায়, আমরা আমাদের অভিভাবকহীন করে চলে যাওয়া এক নেত্রীকে হারিয়েছি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দল ও দেশের জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। বক্তব্যে তিনি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা-উত্তর রাষ্ট্রগঠনে ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন এবং বলেন, দেশের ইতিহাসে তাঁর অবদান অমলিন হয়ে থাকবে।
বিএনপির আগামী দিনের নেতৃত্ব ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ ছিল না। তিনি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি, বরং শালীনতা ও সহনশীলতার চর্চা করেছেন। তিনি আরও বলেন, ঠিক তেমনি তারেক রহমানের মধ্যেও হিংসা-বিদ্বেষের কোনো লক্ষণ নেই। তিনি সবার সঙ্গে আলোচনায় বসছেন, ভিন্নমতকে সম্মান করছেন এবং সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার ভাবনা করছেন। তাঁর আশা, দেশনেত্রীর মতোই তারেক রহমান ভবিষ্যতে সবাইকে একত্রিত করে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক রাজনীতির গুরুত্ব এবং শিক্ষকদের সামাজিক দায়িত্বের বিষয়টি। তারা বলেন, শিক্ষক সমাজ শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; জাতীয় সংকট, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনায় শিক্ষকদের ভূমিকা থাকা জরুরি। সেই জায়গা থেকেই সাদা দল তাদের অবস্থান ও কর্মসূচি পালন করে থাকে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও মো. আবুল কালাম সরকার। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, সাদা দলের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আল-আমিনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ আজহারুল ইসলাম এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীরও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুন, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল, অমর একুশে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. নাজমূল হোসাইন উপস্থিত থেকে দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন। স্টেট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আখতার হোসেন খান এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামও কর্মসূচিতে যোগ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কলা অনুষদ সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুল আমিন, চারুকলা অনুষদ সাদা দলের আহ্বায়ক ইসরাফিল রতন, বিজ্ঞান অনুষদ সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স অনুষদ সাদা দলের আহ্বায়ক মো. শফিউল্লাহও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আইন অনুষদ সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মোস্তফা আবুলউলায়ী, মার্কেটিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ বি এম শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক আনিসুর রহমান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ আরও অনেক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। সহকারী প্রক্টর ড. রফিকুল ইসলামসহ শতাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি ব্যাপকতা ও গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠান ঘিরে উপস্থিত অনেক শিক্ষক ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায় জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁদের দেখা-সাক্ষাৎ বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করেন। কেউ কেউ বলেন, এই ধরনের কর্মসূচি নতুন প্রজন্মের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিহাস জানার একটি সুযোগ তৈরি করে। আবার কেউ মন্তব্য করেন, মত ও পথের পার্থক্য থাকলেও জাতীয় নেতাদের প্রতি সম্মান জানানো একটি সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয়।
সব মিলিয়ে জিয়া উদ্যানে অনুষ্ঠিত এই কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ইতিহাস, রাজনীতি ও মানবিক অনুভূতির এক সমন্বিত প্রকাশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের নেতৃবৃন্দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো স্মরণ করবে এবং শিক্ষক সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।










