নির্বাচনে আ.লীগকে সুযোগ দেওয়ার দাবি অবান্তর: রিজওয়ানা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৯ বার
নির্বাচনে আ.লীগকে সুযোগ দেওয়ার দাবি অবান্তর: রিজওয়ানা

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, সেই বাস্তবতা সামনে রেখে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। তবে যাদের কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত, বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য যারা ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলছেন, তাদের প্রশ্ন ও আবদার সম্পূর্ণ অবান্তর। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নির্বাচন কিংবা দলীয় কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন পরিবেশ, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। তিনি বলেন, নির্বাচন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, এটি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ। সেই সুযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে না।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, অতীতে একাধিকবার এমন নির্বাচন হয়েছে যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত, ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সংকুচিত ছিল এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও অনাস্থা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতায় সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত এবং নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট।

আওয়ামী লীগকে নির্বাচনমুখী করার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষিদ্ধ হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকে, তাহলে সেই দলের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ সুবিধা বা ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যারা এ ধরনের দাবি তুলছেন, তারা মূলত আইনের শাসনের ধারণাকেই দুর্বল করতে চাইছেন। তিনি আরও বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া একটি রাষ্ট্রের মৌলিক স্তম্ভ এবং তা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের কথা উল্লেখ করে বলছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে আইন লঙ্ঘন করে কাউকে সুযোগ দেওয়া নয়। বরং আইনের আওতায় থেকে যেসব দল বৈধভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, তারাই নির্বাচনে অংশ নেবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষ এখন পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা চায় একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে তাদের ভোটের মূল্য থাকবে। এই প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো নিষিদ্ধ দলকে নির্বাচনে সুযোগ দিয়ে সেই প্রত্যাশাকে আঘাত করা হলে জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে হলে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলও এখন বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানে শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সেই মানদণ্ডের অংশ। বিচারাধীন কোনো দলের বিষয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিলে সেটি আন্তর্জাতিকভাবেও নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রিজওয়ানা হাসানের এই বক্তব্য সরকারের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। নির্বাচনকে ঘিরে যে ধোঁয়াশা বা বিতর্ক তৈরি হচ্ছিল, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তা অনেকটাই পরিষ্কার হলো। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার এখন একটি কাঠামোবদ্ধ ও আইননির্ভর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দিকে এগোতে চায়, যেখানে আবেগ বা রাজনৈতিক চাপের চেয়ে আইনি বাস্তবতাই প্রাধান্য পাবে।

একই সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনৈতিক সংঘাত, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি চায়। তারা চায় একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুযোগ নিশ্চিত হবে। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্বও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তাই তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেন।

সব মিলিয়ে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বর্তমান সরকারের অবস্থান হলো—নির্বাচন হবে, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে, তবে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দলের ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্ন অবান্তর। এই অবস্থান আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে কী প্রভাব ফেলে, তা নির্ভর করবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, বিচারিক অগ্রগতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলের ওপর। তবে এটুকু নিশ্চিত, নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের বার্তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট ও দৃঢ়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত