প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে আরও সক্রিয় অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত নেতা সারজিস আলম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন—“১২ জুলাই, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট। চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে, লড়াই হবে একসাথে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে এনসিপি সারা দেশে পদযাত্রা ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছে। এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরায় এবং বিকেল ৫টায় বাগেরহাটে এনসিপি’র কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছে দলটি।
সারজিস আলম শুধু এনসিপির নেতাই নন, বরং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি একজন প্রতিবাদী মুখ হিসেবে পরিচিত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুব সমাজকে সংগঠিত করে আসছেন। এ ছাড়া তিনি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাতীয় স্মৃতিচর্চার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন।
সারজিসের সাম্প্রতিক পোস্ট এবং পদযাত্রার বার্তায় রাজনৈতিক দাবির পাশাপাশি স্পষ্টভাবে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানও লক্ষ করা যাচ্ছে। এনসিপি মনে করছে, চাঁদাবাজি একটি কাঠামোগত সমস্যা হয়ে উঠেছে, যা রাষ্ট্রযন্ত্রের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক অসততার ফাঁকে দিন দিন বিস্তার লাভ করছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।
বক্তৃতায় সারজিস বারবারই উল্লেখ করেছেন, যারা রাজনীতিকে ব্যবসা হিসেবে দেখেন, যারা সংগঠন আর সংগঠনের নামে চাঁদাবাজিকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই এখন সময়ের দাবি। তার মতে, এই লড়াই কেবল রাজনৈতিক কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি পুরো অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে, যা দেশ ও সমাজকে গিলে খাচ্ছে।
সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে এনসিপির আজকের কর্মসূচি সেই সামাজিক প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক জাগরণের এক অংশ। এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্ব ও নতুন ধারার রাজনীতি এই দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
এনসিপির একাধিক নেতার ভাষ্যমতে, সারজিস আলমের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকারের প্রকাশ—যেখানে সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জবাবদিহিহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দলটি দাবি করেছে, এনসিপির এ আন্দোলন দলীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে বৃহত্তর জনস্বার্থ রক্ষায় সচেতনতা গড়ার চেষ্টা করছে। এই পদযাত্রা, সমাবেশ ও বক্তব্যে উঠে আসছে—বিকল্প রাজনীতি ও আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব গঠনের প্রয়াস, যা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের রাজনীতিতে দুর্লভ হয়ে উঠেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সারজিস আলমের এই সক্রিয়তা এবং চাঁদাবাজবিরোধী অবস্থান তাকে ছাত্র ও তরুণদের মধ্যে আবারও এক অনুপ্রেরণামূলক মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। এখন দেখার বিষয়, এই অবস্থান ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চিত্রে কতটা পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়। তবে আপাতত এটুকু স্পষ্ট যে, “চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এনসিপি ও সারজিস আলমের মতো নেতারা নতুন এক প্রতিরোধের রাজনীতির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চাইছেন।