ভালো পরিবেশে অবাধ নির্বাচন সম্ভব: আশাবাদ সিইসির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৮ বার
প্রার্থিতা বাতিল ও সমতা নিয়ে সিইসির সঙ্গে বসছে ইসলামী আন্দোলন

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও ভূমিকা নিয়ে যখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বর্তমান পরিবেশ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অনুকূল। সবার সহযোগিতা পেলে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সোমবার সকালে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং এটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। নির্বাচন কমিশন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে কাজ করে না; প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তার মতে, বর্তমানে সামগ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক রয়েছে।

এই বক্তব্যের পাশাপাশি সোমবার থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণামতে, ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করতে পারবে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, শুধু প্রার্থীই নয়, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী সংস্থা কিংবা প্রার্থীর পক্ষে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও আপিল করতে পারবেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মনোনয়ন যাচাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে কোনো যোগ্য প্রার্থী অন্যায়ভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ না পড়েন।

আপিল কার্যক্রমকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রার্থীরা বা তাদের প্রতিনিধিরা নির্বিঘ্নে আপিল দায়ের করতে পারেন। কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, বুথভিত্তিক এই ব্যবস্থা আবেদনকারীদের ভোগান্তি কমাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তিতে সহায়ক হবে।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আপিল প্রক্রিয়া নির্বাচন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে সব পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো চাপ বা প্রভাব ছাড়াই নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপিল গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হবে, যা নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পথ সুগম করবে। কমিশনের অভিমত, সময়মতো প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হলে নির্বাচন আয়োজন আরও শৃঙ্খলাপূর্ণ হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের এই আশাবাদী বক্তব্য একদিকে যেমন প্রশাসনিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও একটি বার্তা। নির্বাচন ঘিরে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পরিবেশ ও আস্থার সংকটই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেক্ষেত্রে সিইসির বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের একটি অংশ এখনো নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা বলছে, কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তব মাঠপর্যায়ে সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে কমিশনের প্রকৃত পরীক্ষা। এ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পক্ষে নয়। সকল প্রার্থী ও দলের জন্য সমান মাঠ নিশ্চিত করাই কমিশনের নীতি।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ব্যালট ও ইভিএম পরিবহন, প্রার্থীদের প্রচারণা এবং ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপিল প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থার একটি বড় সূচক। অতীতে মনোনয়ন বাতিল বা গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে কমিশন আরও সতর্ক ভূমিকা নিতে চায়।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন, যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সঠিকভাবে নিশ্চিত হয়। সিইসির বক্তব্য সেই প্রত্যাশাকে শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। মনোনয়ন আপিল, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তকরণ এবং প্রচারণা শুরুর আগের এই সময়টাই নির্ধারণ করবে নির্বাচন কতটা বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হবে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের ভাষায়, পরিবেশ যদি এভাবেই সহায়ক থাকে এবং সবাই যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে, তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন অসম্ভব নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত