আসামে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, এলাকা কেঁপে উঠল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ বার
আসামে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, এলাকা কেঁপে উঠল

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তর ভারতের আসাম রাজ্যের ধিং এলাকায় সোমবার ভোরে ৫.৪ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানায়, এই কম্পন ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি সংঘটিত হয়েছে এবং এতে এলাকা কেঁপে উঠেছে। স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়, যা ভুটান সীমান্তের কাছে ধিং গ্রামের প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে কেন্দ্রবিন্দুতে সংঘটিত হয়েছে।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি শক্তিশালী হলেও এই অঞ্চলের তুলনামূলক কম জনসংখ্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা সীমিত। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ধ্বংসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানান, কম্পন অনুভব করে তারা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়েছেন। পাহাড়ি এলাকা ও ক্ষুদ্র গ্রামগুলোতে কম্পন অনুভূত হওয়ায় অনেকেই আতঙ্কে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

হিমালয় অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলে প্রতি বছরই একাধিক ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়, তবে সবসময় এতটা শক্তিশালী নয় যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। ইতিহাসে এই অঞ্চলে বহু প্রাণঘাতী ভূমিকম্প ঘটেছে। বিশেষ করে ১৯৫০ সালে আসাম ও তিব্বতে সংঘটিত এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৪,৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ১৮৯৭ সালের ‘গ্রেট আসাম ভূমিকম্প’কে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে মনে করা হয়। তখন প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে থাকা মানুষদের সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া এবং উচ্চ স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিত। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে জরুরি উদ্ধারকার্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আসামের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ধিং গ্রাম হওয়ায় আশেপাশের ছোট গ্রামগুলোতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে এই কম্পন আরও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির বা হতাহতদের সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আসামের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ভবিষ্যতে এমন কম্পন আরও হতে পারে। তাই স্থানীয় জনগণকে ভূমিকম্প মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত প্রাথমিক ত্রাণ ও সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, হিমালয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপদের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা ও প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করান, শক্তিশালী কম্পনের সময়ে আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে স্থিরভাবে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা ও স্থানীয় জরুরি নির্দেশনা মেনে চলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫.৪ হলেও মানুষের অনুভূত কম্পন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকা ও ছোট গ্রামগুলোতে কম্পনের মাত্রা বেশি অনুভূত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অনেকেই ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

প্রশাসন জানিয়েছে, জেলা সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। কোনো ধরনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরগুলোও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।

ভারতে এই ধরনের ভূমিকম্প নতুন নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করান, হিমালয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে কম্পন অনুভূত হলে তা স্থানীয় জনসংখ্যার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকা ও সরকারি নির্দেশনা মানা জরুরি।

ভূমিকম্পের পর স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত হলেও পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, কেউই অবিরত কম্পনের আশঙ্কা হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত