পাকিস্তানে রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানাল জ্যোতির্বিদরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ বার
পাকিস্তানে রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানাল জ্যোতির্বিদরা

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তানে আসন্ন পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উদযাপনের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছে দেশটির জ্যোতির্বিদ্যা গবেষণা কাউন্সিল। জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান মাস শুরু হতে পারে এবং এর প্রায় এক মাস পর ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি কেবল জ্যোতির্বিদ্যার ভিত্তিতে করা একটি প্রাথমিক পূর্বাভাস; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে চাঁদ দেখার সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ‘রুয়েট-ই-হিলাল গবেষণা কাউন্সিল’-এর মহাসচিব মুফতি খালিদ ইজাজ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসাবে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুফতি খালিদ ইজাজ বলেন, চাঁদের জন্মের সময়, সূর্যাস্তের পর চাঁদের অবস্থান, দিগন্তের উচ্চতা ও দৃশ্যমানতার মতো বিভিন্ন জ্যোতির্বিদ্যাগত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বৈজ্ঞানিক গণনা রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেয়, যদিও বাস্তবে চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থার ওপরও নির্ভরশীল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পূর্বাভাসকে কোনোভাবেই চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। পাকিস্তানের ইসলামী ও প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় রুয়েট-ই-হিলাল কমিটিই একমাত্র কর্তৃপক্ষ, যারা চাঁদ দেখার নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য যাচাই করে রমজান ও ঈদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে থাকে। জ্যোতির্বিদরা কেবল সম্ভাব্যতা তুলে ধরেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই।

পাকিস্তানে চাঁদ দেখাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ দেখা যায়। কখনো কখনো বিভিন্ন অঞ্চলে চাঁদ দেখা নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়, যা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। সে কারণে রুয়েট-ই-হিলাল গবেষণা কাউন্সিলের মতো সংস্থাগুলোর জ্যোতির্বিদ্যাগত পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের জন্য একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কেও কথা বলেন মুফতি খালিদ ইজাজ। তিনি জানান, জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব অনুযায়ী ২০ মার্চ শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে। যদি ওই দিন চাঁদ দেখা যায়, তবে ২১ মার্চ পাকিস্তানে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বোঝা যায়, সম্ভাব্য হিসেবে এ বছর পাকিস্তানে রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনে পূর্ণ হতে পারে, যা নির্ভর করবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর।

পাকিস্তানের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে রমজান মাসের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। এই মাসকে কেন্দ্র করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। অফিস-আদালতের সময়সূচি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস, ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি টেলিভিশন ও গণমাধ্যমের অনুষ্ঠান সূচিতেও রমজানের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ফলে রমজান কবে শুরু হতে পারে—এ নিয়ে আগাম ধারণা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এদিকে, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সম্ভাব্য তারিখ জানা থাকলে ছুটি, ভ্রমণ পরিকল্পনা, কেনাকাটা ও সামাজিক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়। সে কারণেই জ্যোতির্বিদদের এই ধরনের পূর্বাভাস প্রতি বছরই ব্যাপক আগ্রহের সঙ্গে অনুসরণ করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার উন্নতির ফলে চাঁদের জন্ম ও দৃশ্যমানতা সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া এখন তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে। তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী চোখে দেখা চাঁদের সাক্ষ্যকেই এখনও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাকিস্তানসহ অনেক মুসলিম দেশেই এই ঐতিহ্য অনুসরণ করা হয়, যেখানে বিজ্ঞান ও ধর্মীয় সিদ্ধান্ত একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় রুয়েট-ই-হিলাল কমিটি ছাড়াও বিভিন্ন প্রাদেশিক কমিটি রয়েছে, যারা নিজ নিজ অঞ্চলে চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানায়। এরপর সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় ঘোষণার মধ্যে পার্থক্য দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

রমজান ও ঈদের তারিখ নিয়ে আগাম আলোচনার প্রভাব শুধু ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে সরকার ও ব্যবসায়ীদের আগাম প্রস্তুতি নিতে হয়। সম্ভাব্য তারিখ জানা থাকলে এসব প্রস্তুতিও সহজ হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে পাকিস্তানের জ্যোতির্বিদ্যা গবেষণা কাউন্সিলের এই পূর্বাভাস দেশটির জনগণের মধ্যে রমজান ও ঈদকে ঘিরে আগাম ধারণা তৈরি করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে কেন্দ্রীয় রুয়েট-ই-হিলাল কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। চাঁদ দেখার সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে—কবে শুরু হবে পবিত্র রমজান এবং কোন দিন উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত