দুই দশক পর হাওরে ফিরছেন তারেক রহমান, সুনামগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তাপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৯ বার
দুই দশক পর হাওরে ফিরছেন তারেক রহমান, সুনামগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তাপ

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও সুনামগঞ্জে পা রাখতে পারেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান—এমন সম্ভাব্য খবরে হাওরাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা সদরে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দিতে পারেন তিনি। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রস্তুতির গতি ও পরিসর দেখে স্থানীয় রাজনীতিকদের ধারণা, এবার আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।

সুনামগঞ্জের রাজনীতি বরাবরই আলাদা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। হাওর, নদী আর জলাভূমি ঘেরা এই জেলার মানুষ রাজনৈতিক আবেগে যেমন সরব, তেমনি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও উন্নয়ন বঞ্চনার বিষয়েও সংবেদনশীল। এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগমনকে শুধু একটি দলীয় সফর নয়, বরং আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে হাওরাঞ্চলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে সুনামগঞ্জ থেকেই শুরু হতে পারে তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচারণা। বিএনপির কৌশলগত পরিকল্পনায় এই সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে। কারণ, সিলেট বিভাগ ঐতিহ্যগতভাবেই বিএনপির একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন পর শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা দলটির ভেতরে-বাইরে দু’দিকেই।

তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৪ সালে সুনামগঞ্জ সফর করেছিলেন। সে সময় তিনি শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক জনসভায় বক্তব্য দেন। পাশাপাশি নৌপথে টেকেরঘাট ও জামালগঞ্জে গিয়ে পৃথক সমাবেশেও অংশ নেন। সেই সফর এখনো অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এরপর প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাওরবাসীর কাছে সরাসরি উপস্থিতি ছিল না বিএনপির এই শীর্ষ নেতার। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর তার সম্ভাব্য আগমন স্থানীয় রাজনীতিতে এক ধরনের আবেগী প্রত্যাবর্তনের অনুভূতি তৈরি করেছে।

এই খবরে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলা সদরের পাশাপাশি শান্তিগঞ্জ, পাগলা কিংবা আশপাশের এলাকায় পথসভা বা সংক্ষিপ্ত জনসভার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমানের এক ঝলক দেখার জন্যও মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসবেন—এমন বিশ্বাস থেকেই প্রস্তুতি চলছে ব্যাপকভাবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেজাউল হক জানিয়েছেন, তারেক রহমান তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে হাওরাঞ্চলের মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি নাম। তার আগমন প্রায় চূড়ান্ত ধরে নিয়েই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ২২ অথবা ২৩ জানুয়ারি সুনামগঞ্জে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা বিএনপি সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। মাঠ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে মঞ্চ, শব্দব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে দলীয়ভাবে কাজ এগিয়ে চলছে।

তিনি আরও জানান, সুনামগঞ্জ সদর আসনের বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরসহ স্থানীয় নেতারা সফর সফল করতে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা হচ্ছে, যাতে জনসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দলীয় সূত্র মতে, এই জনসভা শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং হাওরবাসীর জীবন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়েও একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনেও একটি জনসভায় যোগ দিতে পারেন—এমন আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দলীয়ভাবে এমন পরিকল্পনা হতে পারে। যদিও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও সম্ভাবনাটি ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, সিলেটে মাজার জিয়ারতের পর সুনামগঞ্জেও জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। তবে তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ জানিয়েছেন, ২২ জানুয়ারি তারেক রহমানের সুনামগঞ্জ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তারেক রহমানের সফরের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সম্ভাব্য সফর ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য সফর বিএনপির জন্য শুধু সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের বিষয় নয়, বরং আগামী নির্বাচনের আগে হাওরাঞ্চলের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের একটি কৌশলগত উদ্যোগ। দীর্ঘদিন পর শীর্ষ নেতৃত্বের মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতি দলটির কর্মীদের মনোবল বাড়াবে এবং প্রতিপক্ষের জন্যও একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে।

সব মিলিয়ে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সুনামগঞ্জে তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগমন ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা হাওরাঞ্চলের রাজনীতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এখন শুধু অপেক্ষা চূড়ান্ত ঘোষণার, যা এ অঞ্চলের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত