হেড-স্মিথের ব্যাটে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার রানের পাহাড়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৬ বার
হেড-স্মিথের ব্যাটে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার রানের পাহাড়

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিডনির মাঠে টেস্ট ক্রিকেটের চিরচেনা নাটকীয়তা আবারও ফিরে এসেছে ব্যাটসম্যানদের দাপটে। জো রুটের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে ইংল্যান্ড যখন কিছুটা স্বস্তিতে ছিল, তখনই দৃশ্যপট বদলে দিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ট্রাভিস হেড ও স্টিভেন স্মিথের জোড়া সেঞ্চুরিতে সফরকারীদের রানকে ছাড়িয়ে গিয়ে রীতিমতো রানের পাহাড় গড়ে তুলেছে অজিরা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪৮০ রান, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই তুলে দিয়েছে।

এর আগে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস থামে ৩৮৪ রানে। অধিনায়ক জো রুট দায়িত্বশীল এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছে, সেই সংগ্রহ সিডনির উইকেটে যথেষ্ট ছিল না। ঘরের মাঠে পরিচিত কন্ডিশন, ধৈর্য আর আক্রমণাত্মক মানসিকতার মিশেলে হেড ও স্মিথ ইংল্যান্ডের বোলারদের জন্য কঠিন এক দিন উপহার দিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন ওপেনার ট্রাভিস হেড। বৃষ্টি বিঘ্নিত দ্বিতীয় দিন শেষে তিনি ৯১ রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেন। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দিনের শুরুতে দ্রুত উইকেট হারাতে পারে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু হেড ছিলেন ভিন্ন মেজাজে। বল বুঝে খেলেছেন, আবার সুযোগ পেলেই আক্রমণ করেছেন। ১৬৬ বল মোকাবিলা করে ২৪টি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কায় ১৬৩ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাটিংয়ে ছিল না অযথা ঝুঁকি, ছিল নিখুঁত টাইমিং আর আত্মবিশ্বাসী স্ট্রোকপ্লে।

হেডের এই সেঞ্চুরি শুধু ব্যক্তিগত কীর্তি নয়, বরং ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এক ইনিংস। ইংল্যান্ডের বোলাররা বারবার লাইন-লেন্থ বদলালেও হেড ছিলেন অটল। অফ স্টাম্পের বাইরে যাওয়া বল ছেড়ে দেওয়া, শর্ট বল পেলে পুল কিংবা কাট—সব মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ টেস্ট ইনিংস উপহার দিয়েছেন তিনি। সিডনির গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা প্রতিটি বাউন্ডারিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন।

হেডের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে গেছেন স্টিভেন স্মিথ। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত স্মিথ আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি বর্তমান প্রজন্মের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যানদের একজন। ১৯৩ বল খেলে ১৩টি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কায় ১১৬ রানের দাপুটে ইনিংস খেলেছেন তিনি এবং এখনো অপরাজিত রয়েছেন। স্মিথের ব্যাটিংয়ে ছিল চিরচেনা ধৈর্য, অদ্ভুত কিন্তু কার্যকর টেকনিক আর পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার অসাধারণ ক্ষমতা।

হেড যখন আক্রমণাত্মক ছিলেন, তখন স্মিথ ছিলেন শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত। এই দুই ভিন্ন ধাঁচের ব্যাটিং একসঙ্গে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে ভেঙে দিয়েছে। বিশেষ করে নতুন বল পুরোনো হওয়ার পর স্পিন ও পেস—দুই বিভাগেই ইংল্যান্ডের বোলাররা চাপে পড়ে যান। ফিল্ডিংয়েও দেখা যায় হতাশা, কয়েকটি সহজ রান আটকে রাখতে পারেনি সফরকারীরা।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে মারনাস লাবুশেনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ৪৮ রান করে আউট হন, মাত্র দুই রানের জন্য ফিফটি মিস করেন। তার ইনিংসটি হয়তো বড় স্কোরে রূপ নেয়নি, তবে হেড ও স্মিথের সঙ্গে জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে। ক্যামেরুন গ্রিনও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৩৭ রান যোগ করেন, যা দলের বড় সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে কেউই নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি। মাঝে মাঝে ভালো লাইন-লেন্থে বল করলেও দীর্ঘ সময় ধরে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করেছেন এবং সুযোগ পেলেই স্কোরবোর্ড সচল রেখেছেন। এর ফলে ইংল্যান্ডের ফিল্ডারদের ওপর চাপ বাড়তে থাকে এবং সেটার প্রভাব পড়ে পুরো দলের ওপর।

বৃষ্টি বিঘ্নিত দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া যখন ২ উইকেটে ১৬৬ রান তুলেছিল, তখন ম্যাচ ছিল ভারসাম্যে। কিন্তু তৃতীয় দিনে হেডের সেঞ্চুরি আর স্মিথের দৃঢ়তায় সেই ভারসাম্য দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার দিকে হেলে পড়ে। দিনের খেলা যত এগিয়েছে, ততই ইংল্যান্ডের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়েছে।

এই ম্যাচে আবারও প্রমাণ হলো, টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার কোনো বিকল্প নেই। ইংল্যান্ড বড় সংগ্রহ গড়লেও অস্ট্রেলিয়া সেটিকে শুধু টপকে যায়নি, বরং এমনভাবে এগিয়ে গেছে যে ম্যাচে তাদের আধিপত্য স্পষ্ট। এখন ইংল্যান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—কীভাবে এই রান পাহাড়ের জবাব দেওয়া যায় এবং ম্যাচে ফেরার পথ খোঁজা যায়।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়া যদি এই ইনিংসে ৫০০ বা তার বেশি রান তুলতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতে চলে যাবে। তখন ইংল্যান্ডকে শুধু ফলোঅন বাঁচানোর নয়, ম্যাচ ড্র করার লড়াইও করতে হতে পারে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা মানসিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।

সব মিলিয়ে, সিডনির টেস্টে হেড ও স্মিথের ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের শক্তি ও গভীরতারই প্রতিচ্ছবি। দর্শকদের জন্য এটি ছিল টেস্ট ক্রিকেটের এক অনন্য প্রদর্শনী—যেখানে ধৈর্য, দক্ষতা ও বড় ইনিংসের সৌন্দর্য একসঙ্গে ফুটে উঠেছে। ম্যাচ এখনো শেষ হয়নি, তবে এই মুহূর্তে রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া যে শক্ত বার্তা দিয়েছে, তা উপেক্ষা করার মতো নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত