এনসিপিকে ১০ আসন ছাড়ের খবর নাকচ করলেন ডা. তাহের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬১ বার
এনসিপিকে ১০ আসন ছাড়ের খবর নাকচ করলেন ডা. তাহের

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচনি সমঝোতা ও আসন বণ্টন নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন—এনসিপিকে ১০টি আসন ছাড় দেওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতের মতো যদি আবারও পাতানো বা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশ ধ্বংসের দিকেই এগিয়ে যাবে।

বুধবার সকালে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন ডা. তাহের। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত আসন সমঝোতা সংক্রান্ত খবর নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি তার দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

ডা. তাহের বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ বারবার একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু অতীতে আমরা দেখেছি, পাতানো নির্বাচন কীভাবে রাষ্ট্র ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আবার যদি সেই পথেই হাঁটা হয়, তাহলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।” তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে কেবল রাজনৈতিক দল নয়, গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থাই সংকটে পড়বে।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘এনসিপিকে দশটির বেশি আসন ছাড় দিচ্ছে না জামায়াত’—এমন শিরোনামের প্রতিবেদন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্রদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত, যেখানে এনসিপিকে সর্বোচ্চ ১০টি আসন দেওয়া হতে পারে। এই খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এই প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, “এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ গুজব ও কল্পনাপ্রসূত। আমাদের সঙ্গে যেসব দল নির্বাচনি বোঝাপড়ার আলোচনায় আছে, তাদের সঙ্গে বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, আর এনসিপিকে ১০টি আসন দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” তিনি আরও বলেন, কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াতে এমন সংবাদ প্রকাশ করছে, যা রাজনীতির জন্য স্বাস্থ্যকর নয়।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা জানান, বর্তমানে ১১ দলের সঙ্গে নির্বাচনি আসন নিয়ে সমঝোতার আলোচনা চলছে এবং তা শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে। তবে এই সমঝোতা কোনো গোপন বা অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, “সবকিছুই স্বচ্ছতার সঙ্গে হচ্ছে, যাতে কোনো দল বা জনগণ বিভ্রান্ত না হয়।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ডা. তাহের বলেন, সেখানে মূলত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইউরোপীয় প্রতিনিধিরাও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

ডা. তাহের আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এককভাবে সরকার গঠনের মানসিকতা নিয়ে এগোবে না। বরং সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের চেষ্টা করা হবে। তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একক দলীয় সরকার নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক ও সমন্বিত শাসনব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত, প্রতিহিংসা ও বিভাজন চলছে। আমরা চাই এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা হোক, যেখানে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু সহিংসতা থাকবে না।” এ সময় তিনি সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কার কথা তুলে ধরে ডা. তাহের বলেন, অতীতে যেসব নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, সেগুলোর প্রভাব শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচন মানে শুধু একটি সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর আস্থার সংকট সৃষ্টি হওয়া।”

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের এই বক্তব্য একদিকে যেমন গুজব মোকাবিলার চেষ্টা, অন্যদিকে তেমনি সম্ভাব্য জোট রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশল। বিশেষ করে এনসিপিকে আসন ছাড় দেওয়া নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়ে জামায়াত মূলত আলোচনার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে বলে মনে করছেন অনেকে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. তাহের বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে তথ্য যাচাই না করে এমন সংবেদনশীল বিষয় প্রকাশ করা হলে রাজনৈতিক পরিবেশ আরও অস্থির হয়ে ওঠে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে গণমাধ্যম আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

সব মিলিয়ে, এনসিপিকে ১০ আসন ছাড় দেওয়ার খবর নিয়ে যে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত জামায়াতের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করা হলো। একই সঙ্গে ডা. তাহেরের বক্তব্যে আবারও উঠে এলো সুষ্ঠু নির্বাচন, রাজনৈতিক সমঝোতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ। সামনে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এ ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য রাজনীতির মাঠে আরও জোরালো হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত