কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৯ বার
কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ফল আজ প্রকাশ হচ্ছে

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের কৃষিশিক্ষায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত আজ। কৃষি গুচ্ছের ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল আজ বুধবার প্রকাশ করা হবে। কয়েক সপ্তাহ ধরে উদ্বেগ, অপেক্ষা ও স্বপ্ন নিয়ে যে শিক্ষার্থীরা দিন গুনছিলেন, আজ তাদের সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি উৎকণ্ঠা ও কৌতূহল লক্ষ্য করা গেছে।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টায় কৃষি গুচ্ছভুক্ত নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একত্রিত হবেন। সেখানে একটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ফলাফল সংক্রান্ত চূড়ান্ত শিটে উপাচার্যদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হবে। এরপর গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সভা শেষ হওয়ার পরপরই অনলাইনে ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত। গুচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষিবিষয়ক ডিগ্রি প্রদানকারী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

গত শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬, দেশের ৯টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ২০টি উপকেন্দ্রে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ২টায় শুরু হয়ে এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা চলে বেলা ৩টা পর্যন্ত। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং উল্লেখযোগ্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পুরো প্রক্রিয়াটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এবারের কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। মোট ৩ হাজার ৭০১টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৮৮ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ গড়ে প্রতি আসনের জন্য প্রায় ২৪ জন পরীক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, কৃষিশিক্ষার প্রতি দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আসনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষে রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে ১ হাজার ৬টি। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫১০টি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০৫টি এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৫২টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭৫টি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩১টি, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০টি, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০টি এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮২টি আসন রয়েছে। আসনসংখ্যার এই বণ্টন অনুযায়ী মেধা তালিকা ও অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি করা হবে।

ফলাফল প্রস্তুতের পদ্ধতিও ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ১৫০ নম্বরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ১০০ নম্বরের সঙ্গে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর থেকে চতুর্থ বিষয় বাদ দিয়ে ২৫ নম্বর এবং এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর থেকে চতুর্থ বিষয় বাদ দিয়ে আরও ২৫ নম্বর যোগ করা হবে। এই সম্মিলিত নম্বরের ভিত্তিতেই মেধা ও অপেক্ষমাণ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে শুধু ভর্তি পরীক্ষার ফল নয়, পূর্ববর্তী শিক্ষাজীবনের অর্জনও এখানে গুরুত্ব পেয়েছে।

ফলাফল প্রকাশের দিনটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সকাল থেকেই নানা আলোচনা দেখা গেছে। কেউ নিজের সম্ভাব্য স্কোর নিয়ে আশাবাদী, কেউ আবার দুশ্চিন্তায় সময় কাটাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রস্তুতি, কোচিং, অনলাইন ক্লাস ও মডেল টেস্টের পর আজকের ফলাফল তাদের জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের দিকনির্দেশনা দেবে। অভিভাবকরাও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সমানভাবে উৎকণ্ঠিত।

শিক্ষাবিদদের মতে, কৃষি গুচ্ছ পদ্ধতি চালু হওয়ায় ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা পরীক্ষা দেওয়ার ঝামেলা না থাকায় শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ কমেছে। একই সঙ্গে মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা আশা করছেন, ফল প্রকাশের পর ভর্তি ও ক্লাস শুরুর প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন হবে।

ফলাফল প্রকাশের পরপরই উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী ধাপ হিসেবে পছন্দক্রম পূরণ, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়া এবং চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব তথ্য গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদেরকে নিয়মিত ওয়েবসাইট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে আজকের দিনটি কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। কারও জন্য এটি আনন্দের সূচনা, কারও জন্য নতুন করে প্রস্তুতির সময়। তবে শিক্ষাবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, একটি ফলাফলই জীবনের শেষ কথা নয়। তবুও দেশের কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে যারা আজ সুযোগ পাবেন, তাদের হাত ধরেই আগামী দিনের আধুনিক ও টেকসই কৃষির স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত