রামুতে যৌথ অভিযানে অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬১ বার
রামুতে যৌথ অভিযানে অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও অপরাধমূলক সরঞ্জাম উদ্ধার হওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান মিলেছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রামু থানাধীন গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের থোয়াইংগাকাটা সামারঘোনা এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে অবৈধ অস্ত্র মজুত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিল সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিট ও পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানে সেনাবাহিনীর একটি দল, রামু থানা পুলিশ এবং গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে একটি বসতঘর ও তার আশপাশের এলাকা তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও আলামত উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো দীর্ঘদিন ধরে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং যেকোনো সময় তা ব্যবহার করে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা ছিল। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করা হয় এবং সেগুলো আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য থানায় নেওয়া হয়।

উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুটি পুরোনো ও জংধরা পিস্তল, ছয়টি বড় চাইনিজ রাইফেলের গুলি, উনপঞ্চাশটি ছোট পিস্তলের গুলি, চারটি শটগানের ব্যবহৃত খোসা, একটি বড় বন্দুকের বাটের অংশবিশেষ, দুটি লম্বা দা, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি বাটন মোবাইল ফোনসেট এবং একটি কাটার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত গুলির ধরন ও অস্ত্রের প্রকৃতি দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

অভিযানস্থল থেকে আয়শা বেগম রিয়া (২০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে রামু ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, থোয়াইংগাকাটা সামারঘোনা এলাকা তুলনামূলকভাবে দুর্গম হওয়ায় এখানে মাঝে মধ্যেই অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখা যেত। তবে তারা যে অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, সে বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস পায়নি। অভিযানের পর অনেক বাসিন্দা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছিল। যৌথ অভিযানের মাধ্যমে অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় তারা নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা আশাবাদী হয়েছেন।

রামু থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এসব অস্ত্র আগে কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ আশা করছে, গ্রেপ্তার হওয়া নারী ও উদ্ধারকৃত আলামত থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিতভাবে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। রামু উপজেলার এই অভিযান সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলসংলগ্ন এলাকাগুলোতে অবৈধ অস্ত্রের ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। মাদক কারবার, চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে এসব অস্ত্রের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এমন অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর অপরাধ নেটওয়ার্ক ভাঙার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তারা মনে করেন, নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধী চক্রগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া আয়শা বেগম রিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হতে পারে, যাতে তার কাছ থেকে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পলাতকদের ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

রামুতে এই যৌথ অভিযানের ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, সামাজিক সচেতনতা ও নিয়মিত নজরদারিও অপরাধ দমনে সমানভাবে প্রয়োজন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত