ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি ‘অসত্য’, অবস্থান জানাল বিসিবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ বার
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি ‘অসত্য’, অবস্থান জানাল বিসিবি

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত কিছু দাবি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলতে না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিবি নাকি আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে—এমন দাবি ভারতীয় একটি প্রভাবশালী ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তবে বুধবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি সেই দাবি নাকচ করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

বিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কখনোই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে কোনো ধরনের ‘আলটিমেটাম’ দেয়নি কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে ভারতে গিয়ে খেলতে হবে—এমন কোনো বার্তা পাঠায়নি। বরং আইসিসি বিসিবির উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বুধবার প্রকাশিত বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বোর্ডের পক্ষ থেকে উত্থাপিত নিরাপত্তা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট উদ্বেগগুলো সমাধানের লক্ষ্যে আইসিসি নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আশ্বস্ত করেছে যে, টুর্নামেন্টের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিসিবির মতামতকে স্বাগত জানানো হবে এবং তা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। বিসিবির মতে, এটি স্পষ্ট করে দেয় যে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে আলোচনা সহযোগিতামূলক ও পেশাদার পরিবেশেই চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভারতের ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে দাবি করে, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে—এমন বার্তা নাকি আইসিসি বিসিবিকে জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের জেরে বিসিবি নাকি কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং বিষয়টি আইসিসিকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা, জল্পনা ও বিতর্ক শুরু হয়।

তবে বিসিবি সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, আইসিসি ইএসপিএনক্রিকইনফোকে এমন কোনো তথ্য দেয়নি এবং বোর্ডও এমন কোনো অবস্থান নেয়নি, যা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কিছু গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনে বোর্ডকে এ বিষয়ে “আলটিমেটাম” দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিসিবি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও অসত্য। আইসিসি থেকে প্রাপ্ত বার্তার বিষয়বস্তু বা ধরন কোনোভাবেই এ ধরনের প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলতে না দেওয়ার প্রসঙ্গটি অবশ্য নতুন নয়। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি, খেলোয়াড়দের বিশ্রাম এবং ফিটনেস ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিসিবি প্রায়ই বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলোয়াড় ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নেয়। এ সিদ্ধান্ত ঘিরে মাঝে মাঝে সমালোচনা হলেও বোর্ড বরাবরই দাবি করে আসছে, জাতীয় দলের স্বার্থই তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

এই প্রেক্ষাপটে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে নিরাপত্তা ইস্যু বিসিবির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা বারবার সামনে এসেছে। বিসিবি মনে করে, খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো টুর্নামেন্টেই অংশগ্রহণের বিষয়টি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হতে পারে না।

বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জাতীয় দলের নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে। ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের সফল ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিসিবি আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পেশাদার ও সহযোগিতামূলক উপায়ে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে। বোর্ডের লক্ষ্য, আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছানো।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। প্রভাবশালী কোনো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেটি অনেক সময় বাস্তবতার বাইরে গিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বিসিবির মতো একটি বোর্ডকে তখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হয়।

একই সঙ্গে এই ইস্যু বাংলাদেশ ক্রিকেটের কূটনৈতিক বাস্তবতাকেও তুলে ধরে। আইসিসির সঙ্গে বিসিবির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বোর্ড সাধারণত বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে একতরফাভাবে বিশ্বকাপ বর্জন বা কোনো দেশে যেতে অস্বীকৃতি—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই ঘটনার মাধ্যমে বিসিবি আবারও জানিয়ে দিল, গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রচারিত খবরকে তারা গুরুত্ব দেয় না। বরং তারা সরাসরি আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে জাতীয় দলের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। বোর্ডের মতে, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ্যমেই ক্রীড়াঙ্গনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা সম্ভব।

সব মিলিয়ে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত দাবিকে ‘অসত্য’ আখ্যা দিয়ে বিসিবি যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করেছে, আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি—সবকিছুই এখনো আলোচনার মধ্যেই রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সংকট তৈরি হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত