১৮ কেন্দ্রের ফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভিপিতে ২৫ ভোটে এগিয়ে রাকিব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮ বার
১৮ কেন্দ্রের ফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভিপিতে ২৫ ভোটে এগিয়ে রাকিব

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ফল ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও আগ্রহ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোট গণনা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক কেন্দ্রের ফল প্রকাশ পাচ্ছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮টি কেন্দ্রের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই আংশিক ফলাফলে সহসভাপতি (ভিপি) পদে দেখা দিয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, যেখানে মাত্র ২৫ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্রার্থী এ কে এম রাকিব।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সমন্বিত ফল অনুযায়ী, ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন মোট ২ হাজার ১২৯ ভোট। অপরদিকে, ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ২ হাজার ১৫৪ ভোট। এই ব্যবধান খুবই সামান্য হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ফল কোন দিকে যায়, তা নিয়ে ভোটার, প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে স্থাপিত নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে ভোট গণনার পর একে একে কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণা করা হয়। ফল ঘোষণার সময় সেখানে প্রার্থী, তাদের এজেন্ট এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি কেন্দ্রের ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে উত্তেজনা, কোথাও উল্লাস আবার কোথাও চাপা হতাশা দেখা যাচ্ছে।

যদিও ভিপি পদে লড়াই এখনো অনিশ্চিত, তবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। ফলে জকসুর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত জকসুর নেতৃত্বে মিশ্র প্রভাব বা সমঝোতার রাজনীতি দেখা যেতে পারে।

জকসু নির্বাচন দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল বিশেষ গুরুত্বের। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া, অধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে জকসুকে বিবেচনা করা হয়। তাই এই নির্বাচনের ফল শুধু ছাত্ররাজনীতির জন্য নয়, পুরো ক্যাম্পাসের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোটের দিন সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে সক্রিয় ছিলেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও দিনভর ক্যাম্পাসে ছিল টানটান উত্তেজনা। ভোট শেষে গণনা শুরু হলে সেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

ভিপি পদে এ কে এম রাকিব ও রিয়াজুল ইসলামের মধ্যকার এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইকে অনেকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ২৫ ভোটের ব্যবধান প্রমাণ করে শিক্ষার্থীদের ভোট দুই প্রধান ধারায় প্রায় সমানভাবে বিভক্ত। ফলে বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলই নির্ধারণ করবে শেষ হাসি কে হাসবে।

এদিকে, ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা সংযত মন্তব্য করছেন। কেউই এখনই বিজয়ের দাবি করছেন না। ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সমর্থকরা বলছেন, বাকি কেন্দ্রগুলোর ফল প্রকাশ হলে ব্যবধান আরও বাড়বে বলে তারা আশাবাদী। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, এখনো অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের ফল বাকি রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তারাই এগিয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল নিয়ে আলোচনা করছেন, কেউ কেউ আবার সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করছেন। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, যে প্রার্থীই নির্বাচিত হোক না কেন, তার প্রধান দায়িত্ব হবে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো তুলে ধরা।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বাকি কেন্দ্রগুলোর ভোট গণনাও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। সব কেন্দ্রের ফল ঘোষণা শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের এই মুহূর্তটি পরিণত হয়েছে নাটকীয় এক সন্ধিক্ষণে। মাত্র ২৫ ভোটের ব্যবধান পুরো নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এখন তাকিয়ে আছেন বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফলের দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত