শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশনে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা: চারজনের বিরুদ্ধে মামলা, তোলপাড় পুরো জেলা

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৪১ বার
শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশনে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা: চারজনের বিরুদ্ধে মামলা, তোলপাড় পুরো জেলা

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর পুরো হবিগঞ্জ জেলা জুড়ে চরম উত্তেজনা ও জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই নৃশংস ঘটনার খবর বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে, বাকিদের ধরতে চলছে পুলিশের অভিযান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে কুলাউড়া থেকে চট্টগ্রামগামী একটি আন্তঃনগর ট্রেনে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে এসে নামে এক কিশোরী। পরে স্টেশন এলাকায় অবস্থানকালে কিছু যুবক ও কিশোর তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং পাশ্ববর্তী রেলস্টেশন এলাকায় তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ মেয়েটি অসুস্থ ও আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ফাঁড়ির পাশে কান্নাকাটি করতে থাকে। তখন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো ঘটনা সামনে আসে।

এ ঘটনার ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সোহাগ মিয়া বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে চরনুর আহমদ গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে রায়হান মিয়াকে ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং তাকে রিমান্ডে এনে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত বাকি তিনজনের মধ্যে দুইজনের নাম জানা গেছে—মাসুম মিয়া ও হৃদয় মিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুই আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে ইতোমধ্যেই একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতার করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

পুলিশ ভিকটিম কিশোরীকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল পরীক্ষায় পাঠিয়েছে এবং তার মানসিক ও শারীরিক অবস্থার সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

এই ঘটনা সামনে আসার পর স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন, শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। স্টেশন প্ল্যাটফর্মের পাশে থাকা বেস্ট ফিডিং রুম দখল করে রাতে কিছু যুবক নিয়মিতভাবে মাদক সেবন, ছিনতাই এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধে জড়াচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে নেপথ্যে কিছু অসাধু রেলকর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের কাছ থেকে কমিশনের বিনিময়ে স্টেশন এলাকাকে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করছেন অনেকে।

বিশেষ করে মা ও শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত বেস্ট ফিডিং রুমটি অপরাধীদের দখলে থাকায় রাতের বেলা মায়েরা সেখানে প্রবেশ করতে ভয় পান। এই নিরাপত্তাহীনতা দীর্ঘদিন ধরেই চললেও প্রশাসনিকভাবে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

রেলওয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেন। সংশ্লিষ্টদের আশ্বাস, দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিচয় গোপন রেখে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাকে সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় শায়েস্তাগঞ্জ এবং আশপাশের এলাকায় চলছে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জনরোষ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং রেল পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা দ্রুত বিচার দাবি করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন নিরীহ কিশোরীর ওপর পাশবিকতা নয়, বরং তা গোটা সমাজ ব্যবস্থার ওপর আঘাত। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা কঠিন হবে।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িত কেউই রক্ষা পাবে না। একইসঙ্গে স্টেশনের নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধমুক্ত করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত