যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকাল ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ন্ত্রণ করবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ বার
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, তারা অনির্দিষ্টকাল ধরে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করবে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বুধবার মিয়ামিতে আয়োজিত গোল্ডম্যান স্যাকস এনার্জি ইভেন্টে জানান, প্রথম পর্যায়ে ভেনেজুয়েলায় মজুত থাকা তেল এবং পরবর্তীতে দেশটি থেকে উৎপাদিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও দৃঢ় হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের বিপণনের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে দেবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, এই ‘উচ্চমানের কিন্তু নিষিদ্ধ’ তেল বাজারমূল্যে বিক্রি করে যে আয় হবে, তা যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে। উদ্দেশ্য হিসেবে জানানো হয়েছে, তেলের আন্তর্জাতিক প্রবাহ পুনরায় সচল করা, মার্কিন রিফাইনারিগুলোতে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ তহবিলে অর্থ জমা রেখে ভবিষ্যতে উভয় দেশের লাভ নিশ্চিত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আরও জানান, ভেনেজুয়েলার নিষিদ্ধ তেলের ওপর আরোপিত অবরোধ বিশ্বের যেকোনো স্থানে কার্যকর রয়েছে। ক্যারিবীয় সাগর ও উত্তর আটলান্টিকে মার্কিন বাহিনী একাধিক ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করার পর তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার অবৈধ তেল বাণিজ্যের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিশ্বব্যাপী কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে এম/টি মারিনেরা নামের একটি জাহাজও আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা নীতির অংশ। এর লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি সীমিত করা এবং দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর চাপ আরও বাড়ানো। তেলের এই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব বৃদ্ধি করাও উদ্দেশ্য।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার তেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের তেলের বিপণন থেকে আসা আয় মার্কিন অর্থনৈতিক তহবিলে যোগ হবে, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন জ্বালানি প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের কারণে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও প্রভাবিত হতে পারে। অর্থনৈতিক চাপ এবং তেলের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তেল রপ্তানি ও আমদানির সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ এবং নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক মনে করছেন, এই নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম হলেও, একই সঙ্গে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

ক্রিস রাইট বলেন, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র মার্কিন স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং বৈশ্বিক তেলের বাজারে একটি কার্যকর তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই তেলের বিপণন কার্যক্রম নজরদারি ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করবে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত থাকে এবং মূল্যমান নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর ভূমিকা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারিগরি ও সামরিক নজরদারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করছে যে, কোনো অবৈধ বা অনুমোদনবিহীন রপ্তানি বা বাণিজ্য আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘটিত না হয়। মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজে নজরদারি বাড়িয়েছে।

ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রভাব নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবও বাড়াবে। তেল রপ্তানিতে মার্কিন তত্ত্বাবধান ভেনেজুয়েলার ভেতরকার নীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও তেল কোম্পানিগুলোকে মার্কিন নীতি অনুযায়ী নিজস্ব কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে প্রভাবশালী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে এই নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সঙ্গে প্রকাশ পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত