প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে গেল এক অভাবনীয় ও নাটকীয় কাণ্ড। কাঠমান্ডুগামী একটি বিমানে বোমা রয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পুরো বিমানবন্দরে সৃষ্টি হয় চরম আতঙ্ক। র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিক তৎপরতায় অভিযানে নামে, বন্ধ হয়ে যায় নির্ধারিত ফ্লাইট চলাচল, শুরু হয় নিরাপত্তা অভিযান। কিন্তু অবশেষে জানা যায়, পুরো ঘটনাটিই ছিল একটি নারীর পরিকল্পিত প্রচেষ্টা—নিজের স্বামীকে প্রেমিকা নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়া থেকে থামানোর উদ্দেশ্যে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
ঘটনার গভীরে গিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারী তার স্বামী ও স্বামীর প্রেমিকার কাঠমান্ডু পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর, এক চরম সিদ্ধান্ত নেন। তিনি র্যাবের একটি হেল্পলাইনে ফোন করে দাবি করেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাঠমান্ডুগামী একটি বিমানে বোমা রাখা হয়েছে। এই তথ্যে চমকে ওঠে গোটা নিরাপত্তা মহল। তৎক্ষণাৎ বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে জরুরি বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়।
র্যাব ও সেনাবাহিনীর একটি যৌথ অভিযানিক দল সঙ্গে সঙ্গেই উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মিথ্যা তথ্যদাতা নারীসহ তার দুই সহযোগী, যারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাকে সহায়তা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
শনিবার (১২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি একেএম শহিদুর রহমান। তিনি জানান, বোমা থাকার কোনো বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এটি একটি পরিকল্পিত গুজব ছড়ানো ছিল, যা বিমান চলাচলে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
র্যাব প্রধান বলেন, “বিমানবন্দর দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর ও নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা। সেখানে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে সবার জীবন বিপন্ন করা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”
জানানো হয়, গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর ও নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। তদন্তে আরও কারা জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গুজবের ফলে নির্ধারিত ফ্লাইটে প্রায় এক ঘণ্টার মতো দেরি হয়। এতে যাত্রীদের মাঝে উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল তল্লাশি চালিয়ে নিশ্চিত হয় যে কোনো ধরনের বিস্ফোরক ছিল না। এরপরই বিমানের ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা হয়।
অবাক করা বিষয় হলো, গুজবের সূত্রপাতকারী নারীর পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও তার স্বামী প্রেমিকা নিয়ে কাঠমান্ডু পৌঁছাতে সক্ষম হন। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে এটিকে ‘বাস্তব জীবনের ট্র্যাজেডি ও নাটকীয়তা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত কারণে এমন ভয়াবহ ও দণ্ডনীয় অপরাধ করাকে খুবই উদ্বেগজনক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে ব্যবহার করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা অবশ্যই কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
এদিকে র্যাব জানিয়েছে, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে, যা ভবিষ্যতের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং বিমানবন্দরে সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।