সৌম্যের ব্যাটে ফিরল আত্মবিশ্বাস, নোয়াখালীর ইতিহাসসেরা সংগ্রহ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
সৌম্যের ব্যাটে নোয়াখালীর রেকর্ড

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশি ক্রিকেটে সৌম্য সরকার এমন এক নাম, যাকে ঘিরে প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনি সমালোচনাও কম নয়। জাতীয় দল থেকে শুরু করে ঘরোয়া ক্রিকেট—প্রতিটি মঞ্চেই তার পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা চলে। এবারের বিপিএলেও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে সৌম্যর শুরুটা ছিল হতাশাজনক। পারিবারিক কারণে প্রথম তিন ম্যাচে মাঠে নামতে না পারা, এরপর ফিরে এসে টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে সিলেটে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সৌম্য সরকার দেখালেন চেনা রূপ। তার ব্যাটে ফিরল রান, আর সেই সঙ্গে নোয়াখালী এক্সপ্রেসও ছুঁয়ে ফেলল নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

এই ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেস সংগ্রহ করে ১৫১ রান। বিপিএলের চলতি আসরে এটিই তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ৭ উইকেট হারিয়ে করা ১৪৩ রানই ছিল নোয়াখালীর সর্বোচ্চ। সেই রেকর্ড এবার ভাঙল সৌম্য সরকারের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে।

ম্যাচের শুরু থেকেই সৌম্য ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। ইনিংসের প্রথম বল থেকেই তাকে বেশ স্বচ্ছন্দ দেখা যায়। নতুন বলে বাড়তি সতর্কতা না দেখিয়ে, আবার অযথা ঝুঁকিও না নিয়ে ব্যাটিং করেছেন তিনি। ওপেনিংয়ে শাহাদাত হোসেন দিপুকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন সৌম্য। এই জুটিতেই নোয়াখালী পায় কাঙ্ক্ষিত উড়ন্ত সূচনা। দুজনে মিলে গড়েন ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি, যা এই আসরে নোয়াখালীর অন্যতম সেরা শুরু।

শাহাদাত হোসেন দিপু ৩০ রান করে আউট হন। ২৮ বলের ইনিংসে তিনি দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন এবং সৌম্যের ওপর চাপ কমাতে বড় ভূমিকা রাখেন। তবে এই ইনিংসের মূল নায়ক ছিলেন সৌম্য সরকার। ৪৩ বলে ৫৯ রানের ইনিংসে তিনি খেলেন তিনটি বিশাল ছয় ও ছয়টি দৃষ্টিনন্দন চার। তার ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস, টাইমিং আর ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার পরিণত বোধ।

এরপর সৌম্য জুটি গড়েন মাজ সাদাকাত ও অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবির সঙ্গে। মাজ সাদাকাতের সঙ্গে ২৬ রানের জুটি গড়ে তিনি ইনিংসকে আরও মজবুত করেন। এরপর নবির সঙ্গে ১৮ রানের জুটি নোয়াখালীকে দেড়শ রানের পথে এগিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের বলে আউট হন সৌম্য। তবে ততক্ষণে দলের ভিত শক্ত করে দিয়ে গেছেন তিনি।

সৌম্য আউট হওয়ার পর দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ নবি। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে খেলেন কার্যকর ইনিংস। ২৬ বলে ৩৫ রান করে তিনি দলীয় সংগ্রহ এগিয়ে নেন ১৩৯ রানে। ১৮.৩ ওভারে নবি আউট হলে শেষ দিকে কিছুটা গতি হারায় নোয়াখালীর ইনিংস। শেষ ৯ বলে তারা যোগ করতে পারে মাত্র ১২ রান। তবে মাহিদুল ইসলাম অঙ্গন ৫ বলে ১০ রান করে দলের রান কিছুটা বাড়ান। হায়দার আলী ৬ বলে ৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।

এই ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেস একাদশে এনেছিল চারটি পরিবর্তন। জয়ের মুখ না দেখা দলটি প্রতিটি ম্যাচেই নতুন সমন্বয়ের খোঁজে ছিল। আজ হাবিবুর রহমান সোহানের জায়গায় সুযোগ পান শাহাদাত হোসেন দিপু। এছাড়া একাদশে ঢোকেন জাকের আলী অনিক, আবু জায়েদ রাহি ও মেহেদী হাসান রান। এই পরিবর্তনগুলো আংশিক হলেও কাজে লেগেছে বলে মনে করছেন দল সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ওপেনিংয়ে দিপুর সঙ্গে সৌম্যের জুটি দলের শুরুটা মজবুত করেছে।

রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বোলারদের মধ্যে রিপন মণ্ডল ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি ২৭ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। এছাড়া বিনোরা ফার্নান্দো, নাজমুল হোসেন শান্ত ও হাসান মুরাদ একটি করে উইকেট শিকার করেন। তবে সৌম্য সরকারের বিপক্ষে তারা কেউই কার্যকর অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেননি।

এই ইনিংস সৌম্য সরকারের জন্য শুধু একটি ফিফটি নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় উপলক্ষ। বিপিএলের মতো টুর্নামেন্টে একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের কাছ থেকে দল এমন পারফরম্যান্সই প্রত্যাশা করে। দীর্ঘদিন ধরে অফফর্মে থাকা সৌম্যর জন্য এই ইনিংস হতে পারে টার্নিং পয়েন্ট। একই সঙ্গে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্যও এটি স্বস্তির বার্তা। টুর্নামেন্টে এখনো জয়ের মুখ না দেখা দলটি অন্তত ব্যাটিংয়ে ইতিবাচক কিছু দেখাতে পেরেছে।

ম্যাচ শেষে দল সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সৌম্য যদি এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে নোয়াখালীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে। দেড়শ ছাড়ানো সংগ্রহ এই দলকে মানসিকভাবে শক্ত করবে এবং পরের ম্যাচগুলোতে তারা আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে পারবে।

সব মিলিয়ে, রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে এই ম্যাচটি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য ফলের চেয়ে পারফরম্যান্সের দিক থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সৌম্য সরকারের ব্যাটে ফেরা যেন সেই গল্পের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত