জাজিরায় ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে যুবক নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার
জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণে যুবক নিহত

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে সোহান বেপারী (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে ককটেল বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে এমন সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারিকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান বেপারী পাশের সাতগড়িয়া কান্দি এলাকার দেলোয়ার বেপারীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। অনেকেই প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি কী ঘটেছে। পরে শব্দের উৎসের দিকে এগিয়ে গিয়ে একটি রসুন ক্ষেতে রক্তাক্ত অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। মুহূর্তেই বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত যুবকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। শরীরের কিছু অংশে ছিন্নভিন্ন চিহ্ন ও পোড়া দাগ রয়েছে, যা ককটেল জাতীয় বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের শরীরে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, “এটি একটি গুরুতর ঘটনা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ককটেল তৈরির সময়ই বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন জানান, বিলাসপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি প্রভাবশালী গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ প্রায়ই সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। তিনি বলেন, “সংঘর্ষের সময় তারা ককটেল বোমা ব্যবহার করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়েও এখানে এমন ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে দুটি মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, আজকের বিস্ফোরণের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আলামত সংগ্রহের জন্য সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত শনিবার রাত থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব সংঘর্ষে প্রায়ই ককটেল বোমার ব্যবহার দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

নিহত সোহান বেপারীর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, সোহান কীভাবে ও কেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত হলেন, তা তারা বুঝতে পারছেন না। তবে স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, চলমান গ্রুপিং ও সংঘর্ষের কারণে তরুণরা সহজেই সহিংস রাজনীতির ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন প্রাণহানি ঘটছে, অন্যদিকে পুরো সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তাদের মতে, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ করা হলে এমন ঘটনা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। অনেকেই প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ককটেল বোমার মতো হাতবোমা তৈরির প্রবণতা রাজনৈতিক সহিংসতার একটি ভয়ংকর দিক। এতে শুধু যারা এটি তৈরি বা ব্যবহার করে তারাই নয়, আশপাশের নিরীহ মানুষও বড় ঝুঁকিতে পড়ে। একটি ছোট বিস্ফোরণ মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ কেড়ে নিতে পারে এবং স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করে। তাই এই ধরনের ঘটনায় শুধু অপরাধীদের শাস্তি নয়, বরং এর পেছনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজা জরুরি।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে এই ঘটনায় কোনো মামলা বা গ্রেপ্তার হয়নি। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্ফোরণের ধরন, ব্যবহৃত উপকরণ এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

জাজিরার এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধ কীভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। একটি পরিবারের জন্য এটি যেমন অপূরণীয় ক্ষতি, তেমনি পুরো এলাকার জন্য একটি সতর্কবার্তা। সহিংসতার এই ধারাবাহিকতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত