তৃণমূলের আইটি অফিসে ইডির হানা, মমতার তীব্র প্রতিক্রিয়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২ বার
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কলকাতার দুটি বেসরকারি সংস্থা—আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি অভিযান চালায়। এই দুই অফিস তৃণমূল কংগ্রেসের তথ্য-প্রযুক্তি সেল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, এই অভিযানের মাধ্যমে তার দলের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, হার্ডডিস্ক, ল্যাপটপ এবং রাজনৈতিক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মমতা বলেন, এই ঘটনা গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত এবং রাজনৈতিক দলকে ভয় দেখানোর চেষ্টা।

ঘটনার দিন ভোর ৬টা নাগাদ ইডির অভিযান শুরু হয়। একই সঙ্গে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালীন অফিসের নিরাপত্তা কড়াকড়ি করা হয় এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। সকাল থেকেই আইপ্যাকের দফতরের বাইরে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখা যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইডি তার দলের নির্বাচনী কৌশল, অর্থনৈতিক নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল ‘ট্রান্সফার’ করেছে। মমতা বলেন, ‘‘ওরা আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। লড়াই করার সাহস নেই বলেই এখন লুট করতে নেমেছে।’’

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে চলমান বিশেষ তদন্ত প্রকল্পের (এসআইআর) তথ্যও ফরেন্সিক টিমের মাধ্যমে ট্রান্সফার করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেন, ‘‘এটা গণতন্ত্রে হতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক দলের অফিসে ঢুকে কাগজপত্র নিয়ে যাওয়াকে কে বৈধভাবে অনুমোদন করতে পারে?’’ এর সঙ্গে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘উনি দেশ চালাতে পারছেন না। আমার দলের নথি বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন।’’

এ বিষয়ে রাজ্য বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী অতীতেও এমন করেছেন। রাজীব কুমারের বাড়িতে ইডি অভিযানের সময়ও একই ঘটনা ঘটেছিল। এটি সংবিধান লঙ্ঘন এবং আইনের শৃঙ্খলার পরিপন্থী।’’ অন্যদিকে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসও মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, একজন সাংবিধানিক পদাধিকারী হিসেবে এভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানে হস্তক্ষেপ করা নজিরবিহীন এবং তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযানের পরে তৃণমূলের ব্লক ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন। লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতেও তিনি উপস্থিত হন এবং একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে বেরিয়ে দাবি করেন, ‘‘ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল। আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি।’’ মমতার এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একাংশের মতে, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনা রাজ্য–কেন্দ্র সংঘাতকে আরও তীব্র করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত কৌশল ও তথ্যের জন্য এই ধরনের অভিযান রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করবে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পর বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলও পাল্টা মন্তব্য করেছেন। রাজনৈতিক মহলে দেখা যাচ্ছে, এই বিতর্ক কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, জাতীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ ও সংবিধানগত সীমারেখার প্রশ্ন তুলবে।

এছাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য–কেন্দ্র সংঘাত নতুন মাত্রা পাবে। মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দল এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার মধ্যে বিবাদ আরও তীব্র হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। রাজনৈতিক মহল এই বিতর্কের রেশ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে।

উপসংহারে বলা যায়, এই ঘটনা শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সীমানা, সাংবিধানিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সংস্থা ও বিরোধী দলের সম্পর্ককে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত