যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক বৈঠক গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১১ বার
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের সরকারের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেবেন। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই সরগরম শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত মন্তব্যে বলেন, ‘‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহার সবসময়ই একটি বিকল্প।’’ তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে ক্রয় করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। মার্কো রুবিও নির্বাচন করা কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য মূলত আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান চীন ও রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলার জন্য নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় সরকারই মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করার মাধ্যমে কিছু ভুল বোঝাবুঝি দূর করা সম্ভব হবে। এটি একটি কূটনৈতিক প্রয়াস হিসেবে ধরা হচ্ছে যাতে তৃতীয় কোনো পক্ষকে ভুলভাবে বিবেচনা করার সুযোগ না থাকে।

গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্ডট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন, ‘‘গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করাই হবে এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।’’ তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) ইউরোপীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের ভৌগোলিক অখন্ডতা সম্মান করতে হবে। একই দিন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন ট্রাম্পকে জানিয়ে দেন যে, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ ন্যাটো জোটের অবসান ঘটাবে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে দেবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ক্রমবর্ধমান। এটি কেবল আর্কটিক অঞ্চলের স্ট্র্যাটেজিক অবস্থান নয়, বরং সেখানে প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবায়ু এবং সামরিক সুবিধার কারণে বিশ্বশক্তিগুলোর নজরেও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ মূলত নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামরিক বিকল্প ছাড়া কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কার্যকর একটি পদক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কো রুবিওর বৈঠক কেবল ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে আর্কটিক অঞ্চলের শক্তি ভারসাম্য, ন্যাটো জোটের কৌশল এবং চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ন্ত্রণের উপায়ও আলোচিত হতে পারে। বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি বৈঠক ফলপ্রসূ না হয়, তবে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বোঝানো হয়েছে যে, তারা সংলাপে অংশগ্রহণ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে। তবুও কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়। কারণ, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো রকম দ্বন্দ্ব ন্যাটো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং ডেনমার্কের মধ্যে সম্পর্ককে সুদৃঢ় করা সম্ভব, তবে তা কেবল কূটনৈতিক চুক্তি এবং বিকল্পের ভিত্তিতে হতে হবে। আর্কটিক অঞ্চলে শক্তি সমন্বয়, সামরিক উপস্থিতি, প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ কূটনৈতিকভাবে সতর্ক এবং ন্যাটোর শর্তাবলীর মধ্যে থাকা প্রয়োজন। মার্কো রুবিওর বৈঠক কেবল গ্রিনল্যান্ডের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করবে না, এটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং সামরিক কৌশলের দিকনির্দেশকও হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত