নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিদায়ের ঘণ্টা বাজছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার
নোয়াখালী এক্সপ্রেস টানা হারের রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নোয়াখালী এক্সপ্রেস ক্রিকেট দলের জন্য টানা ষষ্ঠ হারের পর প্লে-অফের আশা দিন দিন ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। রাজশাহী ওয়্যারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচে হেরে এই অবস্থায় তারা বাস্তবিক অর্থে প্লে-অফের পথ থেকে অনেকটা দূরে চলে গেছে। যদিও কাগজে কলমে এখনো তাদের সুযোগ অব্যাহত, তবুও আগামী ম্যাচের ফলাফল ও অন্যান্য দলের পারফরম্যান্স তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

টানা ষষ্ঠ হারের পর নোয়াখালীর ভবিষ্যৎ দুইটি নির্দিষ্ট ঘটনার ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, যদি আজকের ম্যাচে সিলেট টাইটান্স জয় পায়, এবং দ্বিতীয়ত, নোয়াখালী পরের ম্যাচে হেরে যায়, তবে তাদের বিদায়ের ঘণ্টা সম্পূর্ণ বাজবে। পরবর্তী ম্যাচে হারলে তাদের হাতে থাকা তিনটি ম্যাচ জিতেও ৮ পয়েন্টের রাজশাহী ওয়্যারিয়র্সকে পেছনে ফেলার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। তাছাড়া, সিলেট জয়ী হলে তাদেরও অর্জিত পয়েন্ট নোয়াখালীর নাগালের বাইরে চলে যাবে। বর্তমানে সাতটি ম্যাচে সিলেটের পয়েন্ট সংখ্যা ছয় এবং টেবিলের প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানটি চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রংপুর রাইডার্সের দখলে রয়েছে।

রাজশাহী ওয়্যারিয়র্সের বিপক্ষে নোয়াখালী ১৫১ রানের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। আরব আমিরাতের মুহাম্মদ ওয়াসিমের অসাধারণ ইনিংস রাজশাহীকে জয় এনে দেয়। তিনি ৩৫ বলে ৬০ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ৪টি চারের পাশাপাশি ৪টি ছয় হাঁকানো ওয়াসিমের পারফরম্যান্স পুরো ম্যাচের রূপটাই পাল্টে দেয়। নোয়াখালীর হয়ে তানজিদ হাসান তামিম ২১, মুশফিকুর রহিম ১৯ এবং রায়ান বার্ল ১৯ রান সংগ্রহ করেন। বোলিংয়ে মেহেদী হাসান রানা ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন। এছাড়া হাসান মাহমুদ ও মোহাম্মদ নবি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

এর আগে নোয়াখালীর ব্যাটিং লাইনআপে সৌম্য সরকার ৪৩ বলের ইনিংসে ৫৯ রান করে দলের রান তোলার দায়িত্ব সামলেছেন। তার ইনিংসটি সাজানো হয় ৩টি ছয় ও ৬টি চারের মার দিয়ে। ইনিংসের শুরুতে তিনি দিপুর সঙ্গে ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে দলের ভিত্তি স্থাপন করেন। রিপন মণ্ডলের ওভারে ৩০ রান করে আউট হলেও দলের রান চাকা সচল রাখেন মোহাম্মদ নবি। নবি ১৮.৩ ওভারে ৩৫ রান করে আউট হন এবং পরবর্তী ৯ বলের মধ্যে নোয়াখালী ১২ রান করতে সক্ষম হয়। মাহিদুল ইসলাম অঙ্গন ৫ বলেই ১০ রান করেন। হায়দার আলী ৬ বল খেলেন ৩ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।

রাজশাহী ওয়্যারিয়র্সের হয়ে রিপন মণ্ডল ২৭ রানে ২ উইকেট নেন। বিনুরা ফার্নান্দো, নাজমুল হোসেন শান্ত ও হাসান মুরাদ একটি করে উইকেট শিকার করেন। ম্যাচের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে বলা যায়, নোয়াখালীর পক্ষ থেকে জয়ের সুযোগ তৈরি করলেও বড় রান আক্রমণ এবং ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার কারণে দল হারের মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মনোযোগ ধরে রাখা এবং সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখানো। কারণ একদিকে সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়্যারিয়র্সের অবস্থান শক্তিশালী এবং অন্যদিকে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রংপুর রাইডার্সের দখলিত প্রথম দুই অবস্থান নিশ্চিত। বাকি তিনটি ম্যাচে জেতার সম্ভাবনা থাকলেও তা কার্যত প্লে-অফে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

নোয়াখালীর পরবর্তী খেলার ফলাফল টুর্নামেন্টের টেবিল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ এবং দলীয় সমন্বয়ই এই সময় তাদের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে। বর্তমান অবস্থায় দলকে শুধুমাত্র রান তোলা নয়, বোলিং এবং ফিল্ডিং উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে হবে।

ম্যাচ বিশ্লেষকরা বলছেন, নোয়াখালীর ব্যর্থতার মূল কারণ হলো নির্দিষ্ট ইনিংসের সময় রানের গতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানো। সৌম্য সরকারের পারফরম্যান্স দলকে কিছুটা এগিয়ে দিলেও পুরো দলের ব্যর্থতা কভার করতে পারেনি। ওয়াসিমের একাই পারফরম্যান্স রাজশাহীর জয় নিশ্চিত করেছে।

এই ম্যাচের ফলাফলের পর নোয়াখালীর সম্ভাব্য প্লে-অফের স্বপ্ন এখন কেবল সম্ভাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। পরবর্তী ম্যাচে জয় ছাড়া প্লে-অফের পথে যাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। খেলোয়াড়দের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো দলের মনোবল ধরে রাখা এবং পরবর্তী ম্যাচে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত