প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো তাদের ইচ্ছামত কাজ করবে, এমন ধারণা সুইডেন প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনগার্ড বলেন, “আমি এমন একটি বিশ্বে বাস করতে চাই না যেখানে বৃহৎ শক্তিগুলি নিজেদের ইচ্ছামত কাজ করে।” তিনি বলেন, এই কারণে আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দাঁড়ানো সুইডেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্টেনগার্ডের এই মন্তব্য আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাব্য হুমকি এবং ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে। তিনি বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড কোনো দেশের বিক্রির জন্য নয়। দ্বীপটি ডেনমার্কের অন্তর্গত একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যেখানে সুইডেনের সরকার মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি একটি বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করতে পারে।
সুইডিশ রেডিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টেনগার্ড বলেন, “যদি বৃহৎ শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের মর্যাদা উপেক্ষা করে, তাহলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তাই সুইডেন সবসময় আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে থাকবে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করে বলেন, “ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান ও মাদুরোর অপগরণ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বে অন্যায় ও অসাম্য বৃদ্ধির পথ খুলে দেয়।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সুইডেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে সবসময় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাইবে। তিনি বলেন, “সত্যিকারের শান্তি ও স্থিতিশীলতা কেবল তখনই সম্ভব, যখন সকল দেশের শাসন ও নীতিমালা আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।”
গত শনিবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপগরণ করেছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুইডেনসহ অনেক দেশ এই ধরণের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের অবমাননা হিসেবে দেখছে।
স্টেনগার্ড বলেন, “আমরা কোনো শক্তিধর রাষ্ট্রকে দেখতে চাই না যারা আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে নিজের ইচ্ছা চালাবে। সুইডেনের অবস্থান স্পষ্ট—শক্তিধর রাষ্ট্রদেরও সীমা আছে এবং তারা যা খুশি তা করতে পারবে না।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড গ্লোবাল স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”
ডেনমার্কের পক্ষ থেকেও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়টিকে বিশ্ব রাজনীতিতে আইন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন।
পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সুইডেনের এই স্পষ্ট অবস্থান শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করতে পারে যে, আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়ের সীমা অমান্য করা সহজ নয়। একই সঙ্গে এটি অন্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করছে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে শক্তিধর দেশগুলোর কার্যকলাপের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা সম্ভব।
সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ক্ষমতাধর রাষ্ট্র নিজস্ব স্বার্থের জন্য সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। স্টেনগার্ডের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, সুইডেন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোকে আইন ও ন্যায়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও সুইডেনের অবস্থানকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে, যা বলছে যে, বিশ্বের কোনো দেশ যে ক্ষমতাধর হোক, সে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী অন্য দেশের ভূখণ্ড অধিগ্রহণ বা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না। সুইডেনের স্পষ্ট নীতি হলো শান্তি, ন্যায় এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষা।
স্টেনগার্ডের বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, গ্লোবাল স্থিতিশীলতার জন্য শক্তিধর রাষ্ট্রের আচরণে সীমাবদ্ধতা থাকা আবশ্যক এবং সব দেশকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তিনি বলেছেন, “এই নীতি ছাড়াই কোনো স্থায়ী শান্তি বা সমতা সম্ভব নয়।”