প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত আপিলের শেষ দিনেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে প্রার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইসি ভবনের সামনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের আপিল জমা দিতে শুরু করেন। সকাল থেকে এ লাইন ক্রমশ দীর্ঘতর হতে থাকে, যা সকাল-বিকেলের পুরো সময়জুড়ে চলেছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আপিল প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫০০টি আবেদন জমা পড়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। সাধারণ অভিযোগের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতা এবং যাচাই প্রক্রিয়া। প্রার্থীরা মনে করছেন, যাচাই প্রক্রিয়া বেশ জটিল এবং এর কারণে মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।
আপিল জমা দেওয়ার শেষ দিন হওয়ায় ইসি ভবনের ভেতরে ও বাইরে যেকোনো সময় মানুষের চাপ বেড়ে যায়। প্রার্থীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাদের সহকর্মী ও আইনজীবী, যারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রমাণাদি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। ইসি ভবনের বিভিন্ন কক্ষে কর্মকর্তারা আবেদন গ্রহণ ও রেকর্ডিংয়ের কাজ করছে, যাতে প্রতিটি আপিল যথাযথভাবে যাচাই করা যায়।
নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপিলগুলোর শুনানি ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। শুনানি চলাকালীন প্রতিটি আপিল পত্রের সঙ্গে যুক্ত নথি ও প্রমাণাদি খতিয়ে দেখা হবে এবং রিটার্নিং অফিসারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের সঙ্গতিপূর্ণতা যাচাই করা হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, সব আপিল সময়মতো সমাধান করা সম্ভব হবে এবং কোনো প্রার্থী যাতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
রাজধানীর আগারগাঁও ইসি ভবনের বাইরে আপিলকারীদের লাইন এবং ভিড় সংবাদকর্মীদের নজর কাড়ছে। উপস্থিত প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ জানালেন, প্রক্রিয়া অনেক সময় সাপেক্ষ হলেও এটি একটি বাধ্যতামূলক ধাপ, যাতে নির্বাচনের সময়কার স্বচ্ছতা বজায় থাকে। একজন প্রার্থী বলেন, ‘আমরা চাই প্রতিটি প্রার্থীর আপিল যথাযথভাবে বিবেচনা করা হোক। এটি শুধু আমাদের অধিকার নয়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’
একই সঙ্গে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, প্রয়োজন ছাড়া বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়ানো এবং ভিড় বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং কোভিড–১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল ও আপিল প্রক্রিয়ার সংক্রান্ত এই ধাপ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীরা আইনি সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন আদালত বা ইসির সঙ্গে যোগাযোগ করছে যাতে কোনো সিদ্ধান্ত অবিচারপূর্ণ না হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের এই ধাপটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষণ। প্রার্থীদের উপস্থিতি ও আপিলের সংখ্যা দেখিয়ে বোঝা যায়, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রার্থীরা কতটা দায়িত্বশীল। এছাড়া এটি জনগণকে দেখায় যে, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল যদি আইনি নিয়মের সঙ্গে খাপ খায়, তবে তাদের দাবিগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়া শেষ দিনে ইসি ভবনে মানুষের উপস্থিতি এবং দীর্ঘ লাইন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার দিকে জনগণ ও প্রার্থীদের প্রত্যাশা প্রকাশ করছে।