সবজিতে ঊর্ধ্বমুখী, পেঁয়াজে কিছুটা স্বস্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ বার
সবজি মুরগি দাম পেঁয়াজ

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণে শীতকালীন সবজির দাম বেড়েছে, পাশাপাশি মুরগিরও বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব দেখা দিয়েছে। তবে পেঁয়াজ ও ডালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) কারওয়ান বাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াশা ও সরবরাহ সমস্যা দামের ওঠানামার মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বিক্রেতারা জানান, কুয়াশার কারণে পাইকারী ও খুচরা বাজারে সরবরাহ নিয়মিতভাবে পৌঁছায়নি। এই পরিস্থিতিতে শীতকালীন সবজির দাম সপ্তাহ ব্যবধানে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কাঁচামরিচের কেজি দামের হার বেড়ে বর্তমানে ১২০ টাকা হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ১০০ টাকা ছিল। শশার কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতি পিসের দাম ৪০ টাকা, পাতাকপি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি।

শিম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। মুলার দাম ৫০ টাকা, আর টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। উচ্ছে কেজিতে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। এই ওঠানামা মূলত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে বাজারে বেড়েছে।

মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব দেখা গেছে। ডিম প্রতি ডজন ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও মুরগির কেজি প্রতি দাম বেড়েছে। পাকিস্তানি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায়, যা আগের তুলনায় ২০ টাকা বেশি। দেশি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায়, যেখানে আগের সপ্তাহে দাম ছিল প্রায় ৫৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি প্রতি দাম বেড়ে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে।

অন্যদিকে পেঁয়াজ ও ডালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা কমে ৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও, আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় রয়েছে। মুগ ডালের কেজি ২০ টাকা কমে ১০০ টাকায় নেমেছে। বড় দানার মসুর ডাল ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা কম।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শীতকালীন সবজির দাম সাধারণত কুয়াশা ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে বেড়ে থাকে। শীতকালীন মৌসুমে পণ্য সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হলে তা বাজারে দাম বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে ঢাকার মতো বড় শহরে পাইকারী সরবরাহে বিলম্ব হলে খুচরা বাজারেও তা তীব্র প্রভাব ফেলে। তবে পেঁয়াজ ও ডালের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বাজার পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে শীতকালীন সবজির দাম কিছুটা স্থিতিশীল হবে। তবে মুরগি ও কিছু সবজির দাম এই মৌসুমে তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে, কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও আমদানি পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।

ক্রেতারা জানিয়েছেন, তাজা সবজি ও মুরগি কিনতে তারা আগের তুলনায় বেশি খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিক্রেতাদের কথায়, সরবরাহ ঠিকঠাক না হলে দাম আরও বাড়তে পারে।

সরকারি সূত্র জানায়, বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাইকারী ও খুচরা বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি, পেঁয়াজ ও ডাল সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া মুরগির বাজারেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মোটের উপর, রাজধানীর বাজারে শীতকালীন সবজির ও মুরগির দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে পেঁয়াজ ও ডালের দাম। ক্রেতাদের জন্য এটি একটি তাত্ক্ষণিক প্রাপ্তি হলেও বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শীতের এই সময়কালে দাম ওঠানামা স্বাভাবিক বিষয় এবং সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনাই মূল চ্যালেঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত