প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নাটোরের সিংড়ায় বিএনপি নেতা আবু রায়হানকে (৪৫) কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় নাটোর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে হুকুমের আসামি করে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন আহত নেতা আবু রায়হানের ছেলে মেহেদী হাসান। তিনি বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে সিংড়া থানায় ঘটনাটি সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আবু রায়হান সিংড়া উপজেলার ইতালি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি হিজলি গ্রামের মৃত অফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের একজন সমর্থক হিসেবেও পরিচিত। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাজপুর ইউনিয়ন এলাকায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল ব্যবহার করে তাকে গুরুতর জখম করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা আহত আবু রায়হানকে উদ্ধার করে প্রথমে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার নজরদারি শুরু করেন। এই হামলা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর জানান, ‘বিএনপি নেতা আবু রায়হানকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় জেলা বিএনপির সদস্য ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে হুকুমের আসামি করে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নেতা আবু রায়হানের ওপর হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী আহত নেতার সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন এবং দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ডাক্তাররা জানান, কুপিয়ে আঘাতের কারণে আহত ব্যক্তির শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং তার অবস্থা গুরুতর।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আহত আবু রায়হানের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। তার পরিবার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেরও মন্তব্য, এই ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তেজনাপূর্ণ করেছে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে, এলাকার সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত। তারা বলছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এ ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হতে হবে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা ও তৎপরতা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবারের ঘটনার পর থেকেই সিংড়া থানা ও স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা মামলার প্রমাণ সংগ্রহ এবং অভিযুক্তদের সনাক্তকরণের জন্য কাজ করছে।
এই ঘটনার ফলে নাটোর-৩ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।