প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি, গণতন্ত্রের চর্চা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি ছাত্র সংগঠন গোপনে বা গুপ্ত রাজনীতি চালিয়ে গেছে এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেই গোপন রাজনীতির সুফল ভোগ করছে। তার মতে, এই ধরনের রাজনীতি কোনোভাবেই সুস্থ গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের প্রতিফলন নয়।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীতে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি ঢাকার আয়োজনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের নানা দিক তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মের কাছে তার রাজনৈতিক আদর্শ ও ত্যাগ তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বহু বছর ধরে আমাদের ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে ঢুকতেই পারেনি। ছাত্ররাজনীতির নামে একতরফা দমন-পীড়ন চলেছে। যারা এখন ছাত্র সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন, তারা প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারেননি। গোপনে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। এটা আমরা সমর্থন করি না।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি ছাত্র সংগঠন আগের সরকারের সময় প্রশাসনিক সুবিধা ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গুপ্ত রাজনীতি করেছে এবং এখন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেই সুফল ভোগ করছে।
তার মতে, সুস্থ ছাত্ররাজনীতি মানেই স্বচ্ছতা, প্রকাশ্য মত প্রকাশের সুযোগ এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই পরিবেশ অনুপস্থিত ছিল। নজরুল ইসলাম খান বলেন, “যখন দেশে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক অবস্থা ফিরে আসবে, তখন ছাত্র-ছাত্রীরাই সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্তির ঊর্ধ্বে উঠে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক চর্চাকে এগিয়ে নেবে।
আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়। এ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “যে মানুষটা সারাজীবন লড়াই করেছেন মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য, তার সেই সংগ্রামের ইতিহাস তরুণদের জানাতে হবে। খালেদা জিয়া যা রেখে গেছেন, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।” তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন আপসহীন গণতন্ত্রের প্রতীক। তার রেখে যাওয়া রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নজরুল ইসলাম খান বলেন, “খালেদা জিয়া তার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানকে রেখে গেছেন, যিনি রাজনীতির অনেক বড় অংশীদার। তারেক রহমানের বাবা স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি তার বাবা ও মায়ের আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাবেন। তিনি নিজেই বলেছেন, তার মা যেখানে শেষ করেছেন, সেখান থেকেই তিনি শুরু করবেন।”
গণতন্ত্রের উত্তরণে বর্তমান বাস্তবতায় কোনো বাধা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “সব ভালো কাজের পথেই বাধা থাকে। যারা দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চায়, তাদের শত্রু থাকবেই।” তিনি ইঙ্গিত দেন, গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়, কিন্তু জনগণের ঐক্যবদ্ধ ইচ্ছাশক্তিই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়।
নির্বাচন পরিচালনা, দলীয় শৃঙ্খলা এবং ইশতেহার প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এসব বিষয় দেখবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এখনো প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়নি এবং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রেখে অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকা অত্যন্ত জরুরি। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।” তার মতে, একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের বিপক্ষে, তারা নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবেই, কিন্তু সেসব মোকাবিলা করেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হবে।
সব মিলিয়ে নজরুল ইসলাম খানের বক্তব্যে উঠে এসেছে বাংলাদেশের বর্তমান ছাত্ররাজনীতি, অতীত সরকারের সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিএনপির ভবিষ্যৎ কৌশল এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা। তার ভাষায়, গোপন রাজনীতির মাধ্যমে নয়, বরং প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক পথ বেছে নেবে। এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।