প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রাজশাহীকে ৯ উইকেটে মাত্র ১২৮ রানে আটকে দিয়েছে চট্টগ্রামের বোলাররা। চট্টগ্রামের পেস আক্রমণ কার্যকর হয়েছে পুরো ম্যাচজুড়ে, যেখানে পাকিস্তানি পেসার আমির জামালের দুর্দান্ত বোলিংয়ে রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা নিরাশ হয়েছেন।
আমির জামাল, যিনি আগের ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন, আজও তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৪ উইকেট না পেলেও তিনি ২৩ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নেন, যা পুরো দলের বোলিংকে শক্তিশালী করেছে। তার পাশাপাশি শরিফুল ইসলাম, তানভীর ইসলাম, মেহেদী হাসান ও হাসান নাওয়াজসহ দলের অন্যান্য বোলাররাও কার্যকরী বোলিং উপহার দিয়েছেন। শরিফুল ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। তানভীর ইসলাম ২৬ রানে ২ উইকেট নেন। দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান ২১ রানে ১ উইকেট নেন। এছাড়া হাসান নাওয়াজ ২ ওভারে ১৩ রানে ১ উইকেট নেন। একমাত্র খরুচে বোলিং ছিল আবু হায়দার রনির, যিনি ২ ওভারে ২০ রান দিয়ে উইকেট পাননি।
রাজশাহী ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স ছিল চরমভাবে ব্যর্থ। মুহাম্মদ ওয়াসিম ও মুশফিকুর রহিম ছাড়া দলের কেউই টি-টোয়েন্টি স্টাইলের খেলায় এগোতে পারেননি। ওয়াসিম ১৪ বলে ১৯ রান করেন। মুশফিকুর ইনিংসও তেমন নজর কাড়েনি। দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে না পেরে ব্যর্থ হয়েছেন। শান্ত নিজে ১০ বলে ৭ রান করেন। তানজিদ তামিম ১২ বলে মাত্র ৫ রান করেন। এসএম মেহরব ১৯ বলে ১৯ রান করেন। রায়ান বার্ল ১০ বলে ১১ রান করেন। আকবর আলী ১৬ বলে ১৭ রান করেন এবং তানজিম সাকিব ১৪ বলে ১৪ রান করেন। দলের স্ট্রাইকরেট সাধারণত একশর নিচে থাকার কারণে ইনিংস আরও মন্থর হয়ে ওঠে।
এভাবে চট্টগ্রামের বোলাররা রাজশাহী ব্যাটিং লাইনআপের প্রতিটি ফাঁককে কাজে লাগিয়েছেন। প্রতিটি ওভারে ধারাবাহিক চাপে থাকার কারণে রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা স্বাভাবিক খেলায় যেতে পারেননি। বিশেষ করে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যান মুহাম্মদ ওয়াসিম ২১ রানে তানভীর ইসলামের শিকার হন, যা দলের ইনিংসকে আরও চাপের মধ্যে ফেলে দেয়।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলিং একে একে রাজশাহীর ব্যাটসম্যানদের অচল করে দেয়। ফলে দল ৯ উইকেটে মাত্র ১২৮ রানেই থেমে যায়। এই পারফরম্যান্স ম্যাচের ফলাফলের জন্য চট্টগ্রামের পক্ষে সুবিধাজনক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। ম্যাচের বোলিং স্পেশালিস্টরা নির্ধারিত লাইন ও লেংথ বজায় রেখে রাজশাহীর ব্যাটসম্যানদের কমফোর্ট জোন থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
রাজশাহী দলের ইনিংসে এই হারের প্রধান কারণ ছিল ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা এবং স্ট্রাইকরেটের অভাব। ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস গড়তে না পারা, মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা এবং শেষ মুহূর্তে পেসারদের চাপে থাকা পুরো ইনিংসকে অস্থির করে তোলে। ওয়াসিম ও মুশফিকই মূল ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের আশা বহন করছিলেন, কিন্তু তারা নিজস্ব রকমের ইনিংস খেললেও দলের চাহিদা মেটাতে পারেননি।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের বোলাররা নিজেদের কৌশল অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা লক্ষ্য করে বোলিং করেছেন। লাইন ও লেংথের ধারাবাহিকতা, মিডল অর্ডারের ওপর চাপ, এবং উইকেট নেয়ার চেষ্টা—সবই মিলিয়ে রাজশাহীকে কম রানেই সীমাবদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এই ম্যাচে চট্টগ্রামের বোলিং বিভাগ কার্যত রাজশাহী ব্যাটিং লাইনআপকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
মোটের উপর চট্টগ্রামের বোলিং ও ফিল্ডিং পারফরম্যান্স খুবই কার্যকর হয়েছে। মাঠে প্রতিটি উইকেটে টিমওয়ার্ক এবং কৌশলগত বোলিংয়ের সমন্বয় লক্ষণীয় ছিল। ফলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ব্যাটসম্যানরা ধাপে ধাপে আউট হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১২৮ রানেই ইনিংস শেষ হয়।
এই হারের ফলে রাজশাহীর উপর চাপ বেড়ে গেছে। পরবর্তী ম্যাচে তাদের অবশ্যই ব্যাটিং ও বোলিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম রয়্যালস এই জয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় পরবর্তী ম্যাচে নামতে পারবে। বিশেষ করে পাকিস্তানি পেসার আমির জামালের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলকে শক্ত অবস্থানে রাখছে।
ম্যাচের এই ফলাফল দর্শকদের জন্যও উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে চট্টগ্রামের বোলিংয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনের ম্যাচে মধ্যম ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারা কোনো দলকেই হারের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
চট্টগ্রামের দলের কৌশল, উইকেটের ধরন, বোলিং লাইনআপ এবং রাজশাহী ব্যাটসম্যানদের স্থিরতাহীনতা—সব মিলিয়ে এই ম্যাচটি চট্টগ্রামের পক্ষে জয় নিশ্চিত করেছে। রাজশাহী দলের জন্য এটি একটি শিক্ষণীয় ম্যাচ, যেখানে তাদের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা এবং স্ট্রাইকরেট বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।