প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বৈঠক ও মতামত বিনিময় চলছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জাতীয় বেতন কমিশনের বৈঠকে নতুন পে-স্কেল কাঠামো প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সর্বনিম্ন বেতন, সর্বোচ্চ বেতন ও তাদের অনুপাত নিয়ে তিনটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। তবে এতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
একই দিনে বরিশালে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করতে সক্ষম হবে না। তবে একটি কাঠামো তৈরি করে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে দিতে পারে, যাতে তারা তা বাস্তবায়ন করতে পারেন। গভর্নর বলেন, “আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না এবং সেটাই যুক্তিযুক্ত। আমরা হয়তো একটি কাঠামো তৈরি করে দিতে পারি। তবে বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর।”
গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যা অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বাজেট বাস্তবায়ন এবং সরকারি আয় সংক্রান্ত নানা বিষয় বিবেচনা করে তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেল প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারি আয়ের স্থিতিশীলতা ও বাজেটের ভারসাম্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় তিনি ক্যাশলেস লেনদেন প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে নগদ নোটের ঘাটতি এবং ছেঁড়া-ফাটা নোটের সমস্যা কমে আসবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হলে ক্যাশলেস লেনদেন আরও বাড়বে। এতে শুধু ব্যাংকিং কার্যক্রম নয়, ব্যবসায়ীদেরও সুবিধা হবে।” গভর্নর বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার দেশের অর্থনীতি আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।
আমদানি নীতি প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে সময়মতো পণ্য আমদানি না হলে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তিনি জানিয়েছেন, বাজারে মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। তাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আমদানি প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভা মূলত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ষাণ্মাসিকের মুদ্রানীতি প্রণয়নের জন্য আয়োজন করা হয়। এতে বরিশাল অঞ্চলের অংশীজনদের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক, বাজেটের বাস্তবায়ন, মুদ্রানীতি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল প্রণয়নে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যা সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য উপযোগী হবে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে কর্মীদের জন্য আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ড. মনসুর আরও বলেন, “বর্তমান সরকার যেটুকু করতে পারবে, তা হলো একটি প্রস্তুতিমূলক কাঠামো তৈরি করা। বাস্তবায়নের সব সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে থাকবে। এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উপকার নিশ্চিত করবে।”
তিনি ক্যাশলেস লেনদেন প্রসঙ্গে আরও বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি নগদ লেনদেনের ঘাটতি ও ত্রুটিপূর্ণ নোট ব্যবহারের সমস্যা কমে আসবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ জনগণও এ ব্যবস্থার সুবিধা পাবে।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তারা সরকারের নতুন পে-স্কেল ও মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাজারের চাহিদা, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বিবেচনা করতে হবে বলে মনে করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে সরকারের নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবেন।
গভর্নর ড. আহসান মনসুর সভার শেষে জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি ও সরকারি বেতন কাঠামোর উন্নয়নে এই মতবিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য কার্যকর, স্বচ্ছ এবং দীর্ঘমেয়াদি উপকার নিশ্চিত হবে।