প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষত ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে ২৯ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করেছেন।
‘সি’ ইউনিটে মোট সাধারণ আসন ৫১০টি, যেখানে আবেদন করেছেন ১৬ হাজার ৯২৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ১৪ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী। এর ফলে উপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে ৮৭ শতাংশ। ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই বছরের ভর্তি পরীক্ষা তিনটি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করেছেন ১০ হাজার ৫৩৩ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫ হাজার ৩১৪ জন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
পরীক্ষা বহুনির্বাচনি পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি ১০০ নম্বরে মূল্যায়ন করা হবে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। ‘সি’ ইউনিটে পরীক্ষার কাঠামোতে ইংরেজি ৪০ নম্বর, বিশ্লেষণ দক্ষতা ৩০ নম্বর এবং সমস্যা সমাধান অংশে ৩০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে। পাশাপাশি আলাদাভাবে ইংরেজিতে ১৩, বিশ্লেষণ দক্ষতা ও সমস্যা সমাধান অংশে ১০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষার সময় ক্যাম্পাসে সার্বিক পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল রাখতে নিয়োজিত ছিলেন প্রক্টরিয়াল বডি, চাকসু, বিনসিসি ক্যাডেট, রোভার স্কাউট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে মুরাদপুর বাস ভাড়া পর্যবেক্ষণের জন্য চাকসুর উদ্যোগে মনিটরিং টিম নিয়োজিত করা হয়েছিল।
পরীক্ষার দিন সকাল থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কেন্দ্রে উপস্থিত হন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, কেন্দ্রগুলোতে তদারকি ও নীরব পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রস্তুতি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত পানি, বসার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রগুলোতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রকে সাধারণভাবে “উপযুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ইংরেজি অংশে পড়াশোনা ও শব্দার্থের দক্ষতা যাচাই করা হয়েছে, বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধান অংশে যুক্তি ও রেজনিং পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক দক্ষতা মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
‘সি’ ইউনিটে এই ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে ভর্তি হওয়ার জন্য নিজের স্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। প্রতি আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতা কড়া। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ফলাফলের জন্য তারা ধৈর্য ধরবেন এবং নিজেদের প্রস্তুতি অনুযায়ী পরীক্ষা দিয়েছেন।
পরবর্তী ধাপে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং এর মাধ্যমে এবছরের ভর্তি পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, সকল পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, “প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছি। উপস্থিতি ৮৭ শতাংশ হওয়া স্বতঃসিদ্ধ যে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার গুরুত্ব বোঝে এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা পরীক্ষার্থীদের প্রার্থীভিত্তিক চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। এতে শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা দিতে পেরেছেন।
এই ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রফেশনাল ও ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান, শিক্ষা ও প্রশাসন পদ্ধতির প্রতি আস্থা তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রতি উৎসাহ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে।