আড়াইহাজারে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ বার
আড়াইহাজার যৌথবাহিনী অস্ত্র অভিযান

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে শুক্রবার ভোরে যৌথবাহিনীর এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, ককটেল, মাদকদ্রব্য এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর ১৪০ জন সদস্য ও ১০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন। এই অভিযান কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ার চর, মধ্যর চর ও কদমীর চর এলাকায় পরিচালিত হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে যৌথবাহিনী জানায়, আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া একটি বিদেশি ৯ মিমি পিস্তল, দুটি পিস্তল ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তল কভার এবং পাঁচটি শটগান কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি আটটি ককটেল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, একটি ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র, একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১০ লাখ ১৫ হাজার ৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে টেটা, রামদা ও বড় ছোরা রয়েছে।

আটকরা হলেন খালিয়ার চর এলাকার মোঃ স্বপন (৪৫), মোঃ পারভেজ (১৮), আব্দুল মতিন (৫০), মোঃ জাকির (২৮) এবং কালাপাহাড়িয়া এলাকার মোঃ রেন্টু মিয়া (৫১)। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের জানান, আড়াইহাজারে গত বছরের ৯ আগস্ট থেকে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কার্যক্রমের আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এই ইউনিট নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন, পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, “এই অভিযান চরাঞ্চলে অপরাধমূলক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা হবে।”

অভিযানকারী যৌথবাহিনী জানিয়েছে, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল চারদিকে নদী দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে সংবেদনশীল। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অপরাধ প্রবণ হিসেবে পরিচিত। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সেখানে লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং মাদক মজুত রয়েছে। ভোরে একযোগে কর্ডন ও সার্চ অপারেশন শুরু করা হয়, যাতে সন্দেহভাজনরা পালাতে না পারে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, অভিযান এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।

অভিযানে উদ্ধারকৃত বিভিন্ন অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে দেশীয় তৈরি রামদা, টেটা ও বড় ছোরা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া পিস্তল, শটগান কার্তুজ এবং ককটেলগুলো চরাঞ্চলের অপরাধীদের মধ্যে সন্ত্রাস ও নাশকতার জন্য ব্যবহৃত হতো বলে জানিয়েছে যৌথবাহিনী।

এই ধরনের যৌথ অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধপ্রবণ এলাকা থেকে অস্ত্র ও মাদক সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলে যৌথবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান আগেও অনেক অপরাধ কমিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আড়াইহাজারের মতো চরাঞ্চলে অপরাধ ও অস্ত্র উদ্ধারের যৌথবাহিনীর কার্যক্রম দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। এছাড়া এটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত