অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই, কারচুপি রুখে দেওয়া হবে: খোকন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার
ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের দাবি জোরালো করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি বা জালিয়াতি হতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সোনাইমুড়ী উপজেলার নদোনা ইউনিয়নের দেবকালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নদোনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের দল এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি। এই দলের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, “আমরা চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। নির্বাচনে কোনো চালাকি, কোনো জালিয়াতি, কোনো ষড়যন্ত্র কিংবা চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না।”

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। ব্যারিস্টার খোকন বলেন, দেশের অনেক শিক্ষক আছেন যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত বা সমর্থন করেন। তাদের কেউ কেউ প্রিজাইডিং অফিসার কিংবা পোলিং অফিসারের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অধীনে দায়িত্ব পালনকালে কোনো দলীয় পরিচয় বা পক্ষপাতিত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের সময় যদি কোনো দলের পক্ষে কাজ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তার এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা রক্ষার কঠোর অবস্থান। তিনি বলেন, নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং জনগণের আস্থা রক্ষার প্রধান উপায়। এই আস্থা নষ্ট হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. তাজুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদ উল্লা। দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক দিদার হোসেন, সদস্য সচিব কুতুব উদ্দিন সানি, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ওমর শরীফ সোহাগ এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাহের আলম সুমন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অভিযোগ করেন, অতীতের নির্বাচনগুলোতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য। বক্তারা বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটের শক্তিতে বিশ্বাস করে এবং সেই শক্তির মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চাটখিল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, চাটখিল পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আহসানুল হক মাসুদ (ভিপি), বিএনপি নেতা দেওয়ান সামছুল আরেফীন শামীমসহ স্থানীয় পর্যায়ের আরও অনেক নেতা। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ জোরদারের আহ্বান।

দোয়া মাহফিলে বক্তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন এবং তার সুস্বাস্থ্য ও মাগফেরাত কামনা করেন। তারা বলেন, খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র ও সংসদীয় ব্যবস্থার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার নেতৃত্বেই বিএনপি বারবার জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, ব্যারিস্টার খোকনের বক্তব্য শুধু একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। তারা মনে করেন, নির্বাচন ঘিরে যে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে, তা দূর করতে হলে সব রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ মানুষও তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, “আমরা শুধু শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই। যার ভোট, সে যেন তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে।” তার এই বক্তব্যে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারিস্টার খোকনের বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনের আগে বিএনপির কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে। একদিকে তিনি কঠোর ভাষায় কারচুপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই নির্বাচন সুষ্ঠু করার বার্তা দিয়েছেন। এতে করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়বে, তেমনি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে বলে তারা মনে করছেন।

সব মিলিয়ে, নোয়াখালীর এই দোয়া মাহফিল পরিণত হয় একটি রাজনৈতিক বার্তাবহ অনুষ্ঠানে, যেখানে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার আহ্বান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়েছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ততই এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত