তামিমকে ‘দালাল’ বলা নিয়ে বিসিবি পরিচালককে হামিনের তোপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯ বার
তামিমকে ‘দালাল’ বলা নিয়ে বিসিবি পরিচালককে হামিনের তোপ

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের  তামিম ইকবালকে ভারতের ‘দালাল’ হিসেবে উল্লেখ করার পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম। জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার এবং মাইলস ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হামিন আহমেদ তার ওপর তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘প্যাথেটিক চিপ মাইন্ডেড’ অভিহিত করেছেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হামিনের এই মন্তব্য প্রকাশিত হয়। তার মন্তব্যে দেখা যায় যে, তিনি নাজমুল ইসলামের বক্তব্যকে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। হামিন উল্লেখ করেছেন, “বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন তামিম ইকবালকে ‘দালাল’ বলে ওই পরিচালক চরম অশোভন আচরণ প্রদর্শন করেছেন। একজন বাংলাদেশি এবং জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে আমি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।” তিনি আরও যোগ করেছেন, “বিসিবির উচিত এই পরিচালকের অবিলম্বে অপসারণ করা এবং এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া।”

বিষয়টি গত বৃহস্পতিবারের সঙ্গে জড়িত, যখন সিটি ক্লাবে জিয়া ইন্টার ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তামিম ইকবাল বিশ্বকাপ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। তামিমের বক্তব্যের মূল অংশ ছিল, ‘আমাদের অর্থের প্রায় ৯০-৯৯ শতাংশ আইসিসি থেকে আসে। তাই সবকিছু চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ এই প্রেক্ষাপটে নাজমুল ইসলাম তামিমের ছবি সংবলিত একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে তাকে ভারতের ‘দালাল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, “এইবার আরো একজন পরিক্ষিত ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।”

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। নাজমুল পরে স্ট্যাটাসটি মুছে দেন, তবে স্ক্রিনশট ছড়িয়ে যাওয়ায় বিতর্ক থামেনি। সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। অনেকেই হামিনের বক্তব্যের পক্ষে দাঁড়ান, আবার অনেকে নাজমুলের প্রেক্ষাপটের দিক তুলে ধরেন।

হামিনের মতে, নাজমুলের এই আচরণ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, এটি জাতীয় ক্রিকেটের প্রতি অশোভনতা প্রদর্শনের চরম উদাহরণ। তিনি বলেন, “একজন পরিচালক হিসেবে তার দায়িত্ব হলো ক্রিকেট বোর্ডের মর্যাদা রক্ষা করা, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, কিন্তু তার আচরণ পুরোপুরি বিপরীত।” হামিন আরও উল্লেখ করেন, “এই ধরনের মন্তব্য জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মনোবল ও ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ক্রিকেটভক্তদের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”

বাংলাদেশে ক্রিকেট শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, এটি জাতীয় অহংকারের প্রতীক। তাই খেলোয়াড় এবং বোর্ড কর্মকর্তাদের কথাবার্তা ও আচরণ সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নাজমুলের মন্তব্যের সমালোচনা বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। খেলোয়াড়, সমর্থক, বিশ্লেষক এবং সংবাদমাধ্যম এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় জড়িত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিকেটের এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে বোর্ডের দায়িত্বশীল আচরণ ও খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নাজমুল ইসলামের মন্তব্য যদি অনুতাপ বা ক্ষমা না থাকে, তাহলে এটি বোর্ডের দায়িত্ব ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মর্যাদা উভয়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। অন্যদিকে, হামিনের কণ্ঠস্বরকে অনেক ক্রিকেটপ্রীতি সমর্থন করছেন। তারা মনে করছেন, জাতীয় খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন এবং বোর্ডের দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তামিম ইকবালের মত খেলোয়াড়রা দেশের ক্রিকেটের মুখপত্র। তাদের মন্তব্য ও অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বোর্ডের অবস্থানকে প্রভাবিত করে। এজন্য বোর্ড সদস্যদের এমন মন্তব্য সামাজিক ও সাংবাদিক নজরদারির মধ্যে আসে। একজন পরিচালক যদি এমন ধরনের অপমানজনক মন্তব্য করেন, তা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকর।

এ প্রসঙ্গে বিসিবি কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিসিবিকে এরকম পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা বজায় রেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। তামিমের প্রতি সম্মান রক্ষা এবং বোর্ডের মর্যাদা সংরক্ষণ উভয়ই জরুরি।

বিসিবি পরিচালকের বক্তব্যের পর হামিনের তীব্র প্রতিক্রিয়া সামাজিকভাবে আরও বেশি প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তিনি জানান, ক্রিকেটকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। জাতীয় খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং বোর্ডের নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ক্রিকেট শুধুমাত্র খেলা নয়, এটি একটি জাতীয় প্রতিচ্ছবি। খেলোয়াড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বোর্ডের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা দেশের ক্রিকেটের প্রতি জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক মাধ্যমে এই বিতর্ক আলোচনা ও সমালোচনার পাশাপাশি দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির পরিপ্রেক্ষিতকেও সামনে এনেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত