ঢাকায় দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনে মালদ্বীপের সক্রিয় অংশগ্রহণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ বার
ঢাকায় দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা জোরদার, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও যুগোপযোগী করে তুলতে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) শুরু হওয়া তিনদিনব্যাপী এই দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে মালদ্বীপ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। দেশটির উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফাতিমাথ মোহাম্মদের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল সম্মেলনে যোগ দেবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফর ও সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। শিক্ষার মান উন্নয়ন, গবেষণায় বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রশ্নে আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় আয়োজিত সম্মেলনটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষা কূটনীতিকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের আগে মালদ্বীপের প্রতিনিধিদলটি শনিবার (১০ জানুয়ারি) মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নজমুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শিক্ষা সহযোগিতা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং পারস্পরিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ, যেখানে উভয় পক্ষই শিক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম শিক্ষা কূটনীতিকে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও উচ্চশিক্ষা ও বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষায় একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন শিক্ষার সুযোগ, বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বৃত্তি সুবিধার বিষয়টি তিনি প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন।

হাইকমিশনার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত সাতটি সরকারি চিকিৎসা বৃত্তি এখনো পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না। বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বৃত্তিগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার সক্ষমতাও আরও বেশি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই বৃত্তিগুলো ব্যবহারে মালদ্বীপ সরকার আরও উদ্যোগী হবে।

এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী ফাতিমাথ মোহাম্মদ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী মালদ্বীপের চিকিৎসকরা নিজ দেশে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে চিকিৎসা সেবায় তাদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব মালদ্বীপের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ও সুনামেরই একটি শক্ত প্রমাণ।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে মালদ্বীপে আরও ব্যাপক ও সুসংগঠিতভাবে তথ্য প্রচার করা প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এখনো বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে জানেন না। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রস্তাব দেন, যাতে শিক্ষার্থী বিনিময় ও বৃত্তি কার্যক্রম আরও গতিশীল করা যায়।

বৈঠকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকও উঠে আসে। প্রতিমন্ত্রী ফাতিমাথ মোহাম্মদ জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মালদ্বীপে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ উভয় দেশই উন্নয়নশীল হওয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়নে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ, ডিজিটাল শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক গতিশীলতা—এসব বিষয় সম্মেলনের আলোচ্যসূচির কেন্দ্রে থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মালদ্বীপের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ এই সম্মেলনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ছোট দ্বীপরাষ্ট্র হলেও মালদ্বীপ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা বাড়লে উভয় দেশই লাভবান হবে। একদিকে বাংলাদেশ তার শিক্ষাব্যবস্থার আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ ঘটাতে পারবে, অন্যদিকে মালদ্বীপ পাবে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ।

বৈঠক শেষে মালদ্বীপের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সফরকালীন সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে করে সফরটি আরও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, ঢাকায় আয়োজিত এই দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুধু একটি আঞ্চলিক অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে শিক্ষা কূটনীতিকে নতুন মাত্রা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত