রিশাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্লেঅফে হোবার্ট হারিকেন্স

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ বার
বিগ ব্যাশ প্লেঅফে হোবার্ট হারিকেন্স

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলতি মৌসুমের বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) প্রথম দল হিসেবে প্লেঅফ নিশ্চিত করেছে হোবার্ট হারিকেন্স। বাংলাদেশি লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে এবারের আসরে শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা দেখিয়ে আসছিল দলটি। অবশেষে রোববার (১১ জানুয়ারি) সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্লেঅফ নিশ্চিত হয় হোবার্টের। এই অর্জনের মাধ্যমে বিগ ব্যাশে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল হারিকেন্স, আর বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বাড়তি আনন্দের খবর।

সিডনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য সিডনি সিক্সার্স ও হোবার্ট হারিকেন্সের ম্যাচটি শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে। টস জিতে স্বাগতিক সিডনি সিক্সার্স ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতে ব্যাট হাতে ইতিবাচক সূচনা করে তারা। পাঁচ ওভার খেলা হওয়ার পরই বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। প্রথমে হালকা বৃষ্টি হলেও ধীরে ধীরে তা তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষার পরও মাঠ খেলার উপযোগী না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আম্পায়াররা ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। এর ফলে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট পায়, আর এই এক পয়েন্টই হোবার্ট হারিকেন্সকে পৌঁছে দেয় প্লেঅফের নিশ্চয়তায়।

নয় ম্যাচ শেষে হোবার্ট হারিকেন্সের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৩। পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, পাঁচ থেকে আট নম্বরে থাকা দলগুলোর পক্ষে আর হোবার্টকে টপ ফোরের বাইরে ঠেলে দেওয়া সম্ভব নয়। পাঁচ নম্বরে থাকা ব্রিসবেন হিটের সংগ্রহ ৮ পয়েন্ট, তাদের হাতে বাকি আছে মাত্র দুটি ম্যাচ। সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তারা ১২ পয়েন্টের বেশি অর্জন করতে পারবে না। একইভাবে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগাদসের হাতে তিনটি করে ম্যাচ থাকলেও তাদের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২ পয়েন্টে পৌঁছানোই সম্ভব। ফলে গাণিতিক হিসাবেই প্লেঅফ নিশ্চিত হয়ে যায় হোবার্ট হারিকেন্সের।

শুধু প্লেঅফ নয়, হোবার্ট হারিকেন্সের সামনে টেবিল টপার হওয়ার সুযোগও রয়েছে। পরের ম্যাচে ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে জয় পেলেই তারা লিগ পর্ব শেষ করবে শীর্ষে থেকে। এতে করে ফাইনালে ওঠার পথ আরও সহজ হবে তাদের জন্য। এই সাফল্যের পেছনে দলগত পারফরম্যান্স যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আলাদাভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশি স্পিনার রিশাদ হোসেন।

হোবার্ট হারিকেন্সের এবারের অভিযানে রিশাদ হোসেন যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। তিনি শুধু দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিই নন, চলতি বিগ ব্যাশে স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বোলারও তিনি। এখন পর্যন্ত রিশাদ নিয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উইকেট, গড় ২০.৮১ এবং ইকোনমি রেট মাত্র ৭.৬৩। টি-টোয়েন্টির মতো ফরম্যাটে এমন ইকোনমি রেট ও ধারাবাহিক উইকেট শিকার যে কোনো দলের জন্যই বড় সম্পদ।

বিগ ব্যাশে অভিষেকের আগেই হোবার্ট হারিকেন্সের কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে রিশাদ পেয়েছিলেন আস্থার জায়গা। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েই দলটি তাকে দুবার দলে অন্তর্ভুক্ত করে। হোবার্ট হারিকেন্সের হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার স্যালিয়ান ব্রিগস এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, রিশাদকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিং। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে রিশাদের আগ্রাসী বোলিং এবং উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য পন্টিংয়ের নজর কেড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই হোবার্ট হারিকেন্স রিশাদের ওপর আস্থা রাখে।

রিশাদ সেই আস্থার পুরোপুরি প্রতিদান দিচ্ছেন মাঠে নেমে। তার বোলিংয়ে রয়েছে বৈচিত্র্য, আত্মবিশ্বাস এবং চাপের মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা। ছোট সোজা বাউন্ডারির মাঠেও তাকে নির্ভয়ে বল তুলে দিতে পারছেন অধিনায়ক। কারণ, তিনি জানেন কীভাবে ব্যাটসম্যানকে ফাঁদে ফেলতে হয়। এই কারণেই হোবার্টের বোলিং আক্রমণে রিশাদ হয়ে উঠেছেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সতীর্থদের কাছ থেকেও প্রশংসা কুড়াচ্ছেন এই বাংলাদেশি স্পিনার। হোবার্ট হারিকেন্সের পাওয়ার হিটার টিম ডেভিড গত ২৭ ডিসেম্বর রিশাদের প্রশংসা করে বলেছিলেন, প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে এসে রিশাদ হোসেন যেভাবে পারফর্ম করছে, তা সত্যিই চোখে পড়ার মতো। তিনি জানান, ছোট বাউন্ডারি থাকা সত্ত্বেও রিশাদের হাতে বল দিলে দল আত্মবিশ্বাস পায়, কারণ সে অত্যন্ত বিচক্ষণভাবে বল করে। টিম ডেভিডের মতে, রিশাদের মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

বিগ ব্যাশের ইতিহাসে রিশাদ হোসেন এখন বিশেষ একটি জায়গা করে নিয়েছেন। তার আগে এই টুর্নামেন্টে একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগাদসের হয়ে ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ মৌসুমে ছয় ম্যাচ খেলে নয়টি উইকেট নিয়েছিলেন। রিশাদ ইতোমধ্যেই উইকেট শিকারের দিক থেকে সাকিবকে ছাড়িয়ে গেছেন, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের।

এই সাফল্য শুধু রিশাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের স্পিন বোলিং শক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও বটে। অস্ট্রেলিয়ার মতো ব্যাটিং সহায়ক কন্ডিশনে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করা যে কোনো স্পিনারের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ জয় করেই রিশাদ প্রমাণ করছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখন বিশ্বের যে কোনো মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে প্রস্তুত।

প্লেঅফে ওঠার পর হোবার্ট হারিকেন্সের লক্ষ্য এখন শিরোপা। সেই পথে রিশাদ হোসেন হতে পারেন বড় অস্ত্র। তার ফর্ম যদি ধরে রাখা যায়, তবে হোবার্ট হারিকেন্সের জন্য এবারের বিগ ব্যাশ হতে পারে স্মরণীয় এক মৌসুম। আর বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি হবে আরও একটি গর্বের অধ্যায়, যেখানে দেশের একজন তরুণ স্পিনার বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগে নিজের ছাপ রেখে চলেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত