প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শনিবার রাতের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এবার প্রতি ভরিতে সোনার দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বেড়ে ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এই নতুন দাম আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্যের পরিবর্তনের কারণে সোনার বাজারমূল্যেও এই সমন্বয় আনা হয়েছে। দেশের বাজারে সোনার দাম ওঠানামা সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের দর, ডলার বিনিময় হার, তেলের দাম এবং সরবরাহ ও চাহিদার উপর নির্ভর করে। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি সোনার দাম বৃদ্ধির ফলে গহনার বাজারেও প্রভাব পড়বে।
নতুন হিসাব অনুযায়ী ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা, ২১ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দাম হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রূপার বাজারের দাম স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা। এই স্থিতিশীলতার কারণে রূপার ক্রেতা ও জুয়েলারিদের জন্য বাজারে কোনো উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা দেবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোনার বাজারের এই উত্থান মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সোনার দর বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি স্থানীয় বাজারে পড়েছে। এছাড়া ডলারের মান ওঠানামা, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সোনার দর বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সোনার প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে গহনার বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বছরের শুরুতেই সোনার এই উত্থান মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম যদি স্থিতিশীল না থাকে, তবে দেশীয় বাজারেও আরও ওঠানামা দেখা দিতে পারে। সোনার মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিশেষ করে বিবাহ ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের সময় গহনার ক্রয় ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে, বাজুস জানিয়েছে, গহনার দোকানদাররা নতুন দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করবেন। তবে বাজারের চাহিদা ও ক্রেতার প্রাধান্য অনুযায়ী কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। বিশেষ করে কাস্টমাইজড বা ডিজাইন করা গহনা সাধারণ মূল্যের থেকে ভিন্ন দামে বিক্রি হবে।
সোনার ক্রেতাদের জন্য এই সময়টি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ন। তাদের জন্য বাজেট নির্ধারণ এবং ক্রয় পরিকল্পনা করা প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে যারা সোনার বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের জন্য এই দাম বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে কাজ করবে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমানে সোনার বাজারে ওঠানামা কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আগামী সপ্তাহগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা অনুযায়ী স্থানীয় দামের আরও পরিবর্তন হতে পারে।
এছাড়া দেশের সোনার বাজারে নিয়মিত আপডেট বজায় রাখার জন্য বাজুসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনের দর ও বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হচ্ছে। এর ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতারা উভয়ই সোনার লেনদেনে সুবিধা পান এবং বাজারে অপ্রয়োজনীয় দারিদ্র্য বা হারের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সোনার বাজারের এই ধরনের পরিবর্তন সাধারণ মানুষ, বিনিয়োগকারী ও গহনার দোকানিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতাদের উচিত বাজারের চলমান দামের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিনিয়োগ এবং ক্রয় পরিকল্পনা নেওয়া। বিশেষ করে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের দর বিবেচনায় রেখে সোনার ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে।
সর্বশেষ, বাজুসের এই নতুন ঘোষিত দামের মাধ্যমে দেশীয় বাজারে সোনার ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ রবিবার থেকে। ক্রেতা ও গহনার দোকানিরা এই নতুন দাম অনুযায়ী তাদের লেনদেন পরিচালনা করবেন। ফলে সোনার বাজারে সামঞ্জস্য ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।