বাংলাদেশের ম্যাচ নিয়ে দ্বিধায় আইসিসি, চেন্নাই-তিরুঅনন্তপুরম প্রস্তাব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৭ বার
বাংলাদেশের ম্যাচ নিয়ে দ্বিধায় আইসিসি, চেন্নাই-তিরুঅনন্তপুরম প্রস্তাব

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ম্যাচ খেলানো নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন জানানো হয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র চার সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকায়, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চায় আইসিসি। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের সোমবার অথবা মঙ্গলবারের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রুপপর্বের ম্যাচ দুটি হওয়ার কথা ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। তবে বিসিবির আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান বাস্তবতায় ভারতের কিছু ভেন্যুতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি মনে হচ্ছে। সে কারণে ম্যাচগুলো যদি শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়, তাহলে খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য তা নিরাপদ হবে বলে বোর্ডের ধারণা। বিসিবির এই অবস্থান কেবল ক্রীড়াগত নয়, বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পরামর্শে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই ভারতের ভেন্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যুর সরাসরি কোনো যোগসূত্র স্বীকার করা হয়নি, তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। অনেকের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করাই স্বাভাবিক।

তবে বিসিবির এই আবেদন পুরোপুরি মেনে নেওয়ার পথে যাচ্ছে না আইসিসি—এমন ইঙ্গিতই মিলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার প্রস্তাব সরাসরি গ্রহণ না করে বিকল্প ভেন্যুর কথা ভাবছে আইসিসি। সেই বিকল্প হিসেবে ভারতের চেন্নাই ও তিরুঅনন্তপুরমকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই দুটি ভেন্যুকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগেও চেন্নাইকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু তখন বিসিবি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করেন, কেবল একটি ভেন্যু বদল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হচ্ছে না।

সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিসিবি সভাপতি বলেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসর নিয়ে বোর্ড একক সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী অবস্থান জানানো হবে। তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিষয়টি এখন কেবল ক্রিকেট বোর্ডের নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ের একটি সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ মানেই কেবল খেলার প্রশ্ন নয়, দেশের ভাবমূর্তি ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।

অন্যদিকে, আইসিসি বিসিবির নিরাপত্তা সংক্রান্ত যুক্তির বিপরীতে কিছু বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের বিষয়টি। গতকালই তিনি ভারতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইসিসি এই উদাহরণ দিয়ে দেখাতে চাইতে পারে যে, বাংলাদেশি ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমানে ভারতে নিরাপদেই তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে ভেন্যু পরিবর্তন কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্নও উঠতে পারে।

বিশ্বকাপ আয়োজনের সময়সূচিও আইসিসির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা। এর আগে দলগুলোকে ভেন্যু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে না পারলে প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ দলের মতো যারা বিদেশের মাটিতে তুলনামূলক কম ম্যাচ খেলে, তাদের জন্য আগেভাগে ভেন্যু জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আইসিসিকে একদিকে যেমন আয়োজক দেশ ভারতের অবস্থান বিবেচনা করতে হবে, অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী দেশের যৌক্তিক উদ্বেগও গুরুত্ব দিতে হবে। ভারতীয় বোর্ডের জন্যও এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়, কারণ বিশ্বকাপের মতো আসরে কোনো দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা আয়োজক দেশের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার ভেন্যু পরিবর্তন করলে সূচি, টিকিট বিক্রি ও সম্প্রচার পরিকল্পনায়ও বড় ধরনের সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশের সমর্থকদের মাঝেও এই ইস্যু নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয় এবং প্রয়োজনে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করা যেতে পারে। আবার অনেকে মনে করেন, অতিরিক্ত শঙ্কা প্রকাশ করলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের ম্যাচ কোন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে—এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি আয়োজনগত বিষয় নয়, বরং এটি ক্রিকেট রাজনীতি, কূটনীতি এবং নিরাপত্তার সমন্বিত বাস্তবতার প্রতিফলন। এখন সবার দৃষ্টি আইসিসির আসন্ন ঘোষণার দিকে। ভারতের মাটিতেই কি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, নাকি বিসিবির দাবির আলোকে ভেন্যুতে পরিবর্তন আসবে—এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করে দেবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত